w3app9 Apps

Loading...
BD browser w3app9
w3app9
Try the lightest and fastest web browser foryour Android device. World browser is really light, packs only whatyou need and lets you surf the Web at the speed of light :-).Your favorite browser is just got better with a release of version3. New material design and a lot of new and excitingfeatures!These are some of the World browser's awesome features:* Smart speedial home page* Intuitive Tabs Overview screen* Session management* Auto-Fullscreen feature* Download Manager* Share anything with friendsBrowse the web without the wait - try the Super Fast & lightbrowser from ironSource.We want your FEEDBACKS! Pls contact us for anyrequest/comment/advise so we can make our browser the BEST foryou!
সূরা ক্বাফ (العربية ,উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা কাফ্‌ - ৫০৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : এখন থেকে শুরু হচ্ছে সাতটি সূরার [ ৫০ -৫৬ ] একটি গ্রুপবাশ্রেণী। এই সূরাগুলি মক্কাতে অবতীর্ণ হয়। এই সূরাগুলিরবিষয়বস্তুহচ্ছে : আকাশ- বাতাস, প্রকৃতি, পৃথিবীর অতীত ইতিহাস, রসুলদেরমুখনিঃসৃত বাণী সব কিছু আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশের স্বাক্ষর।আল্লাহ্‌রপ্রত্যাদেশ পরলোকের সত্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।পূর্ববর্তীশ্রেণীর সূরাগুলি [ ৪৭ - ৪৯ ] নূতন মুসলিম উম্মারবহিঃর্বিশ্বের ওনিজেদের মাঝে আচরণ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমানগ্রুপেরসূরাগুলিতে বিশেষ ভাবে পরলোকের সম্বন্ধে আলোচনা করাহয়েছে।এই বিশেষ সূরাটি মক্কী সূরাগুলির প্রথম দিকে অবতীর্ণ হয়।বিশ্বপ্রকৃতির প্রতি ও বিশ্ব ইতিহাসের পাপিষ্ঠদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণকরেমৃত্যু পরবর্তী জীবনের অবগুণ্ঠন খোলার প্রয়াস করা হয়েছে [ দেখুনআয়াত২২ ]।সার সংক্ষেপ : যারা সন্দেহবাতিক, পরলোকে বিশ্বাস করে নাতারাবিশ্বপ্রকৃতির দিকে, আকাশ ও নভোমন্ডলীর দিকে এবং ইতিহাস থেকেপাপীদেরশেষ পরিণতির দিকে লক্ষ্য করুক। তাদের অন্তরের উপর থেকেঅবগুণ্ঠন তুলেনেওয়ার পরেও কি তারা প্রত্যাদেশ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণকরবে ? [ ৫০ : ১- ২৯ ]।হিসাব নিকাশের দিন ও বাস্তবতার দিনই প্রকৃত সত্য। [ ৫ ০ : ৩০ -৪৫]
সূরা সেজদাহ (العربية ,উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা সাজদা বা আরাধনা - ৩২৩০ আয়াত, ৩ রুকু , মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : এই ছোট্ট সূরাটি দ্বারা আলিফ্‌,লাম, মিম সিরিজ বাধারাবাহিকতাশ্রেণীকে শেষ করা হলো। এই ধারাবাহিক শ্রেণীর প্রথম সূরাটিহচ্ছে ২৯তমসূরা এবং শ্রেণীতে মোট চারটি সূরা আছে। এর বিষয়বস্তু হচ্ছেসময় ও Ma'adবা শেষ বিচারের দিন। মানুষ যদি তার শেষ পরিণতি সম্পর্কেচিন্তা করে ,তবে অবশ্যই সে আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসাতেআপ্লুত হবে। সময়েরক্রমপঞ্জি অনুযায়ী এই সূরাটি মধ্য মক্কীন সূরা।সুতারাং এই সূরাটিপূর্ববর্তী সূরার কিছু পূর্বে অবতীর্ণ। অবশ্যঅবতীর্ণ হওয়ার সময়েরব্যাপারে বিশেষ কোনও বিশেষত্ব নাইসারসংক্ষেপ : সৃষ্টির ব্যাপারে সময় এবং সকল বস্তুর শেষ পরিণতিসম্বন্ধেমানুষ ধারণা লাভ করে বাইরের প্রতীক দ্বারা। আল্লাহ্‌রপ্রত্যাদেশমানুষের মনে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা উৎপন্ন করে ঠিক সেরূপ ভাবে,বৃষ্টিযেরূপ শুষ্ক মাটিকে সিক্ত করে সজীব করে তোলে [ ৩২ : ১ - ৩০]।
সূরা ত্বালাক্ব (العربية ,উচ্চারণ,অর্থ,English,Mp3) 1.0
w3app9
সূরা তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদ - ৬৫১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী[ দমাময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : এই সূরাটি মাদানী সূরার শ্রেণীর নবম সূরা। এই সূরাতেউম্মারসামাজিক ব্যবস্থার আলোচনা করা হয়েছে। সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছেবিবাহবিচ্ছেদ এবং এ ব্যাপারে মহিলারা যেনো নির্যাতিত না হয় সেব্যাপারেসাবধানতা অবলম্বন করার প্রতি নির্দ্দেশ সম্বলিত। সমাজ জীবনেঅন্যতমগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নারী পুরুষের পারস্পরিক যৌন জীবন। এইসূরা ওপরবর্তী সূরাতে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কোন কোন অংশ আলোচনা করাহয়েছে।রাসুল (সা) বলেছেন; " আল্লাহ্‌র চক্ষে তার বিধানেরসর্বাপেক্ষাঅপছন্দনীয় অংশ হচ্ছে বিবাহ বিচ্ছেদ।" পারিবারিক জীবনেরভিত্তি হচ্ছেবৈবাহিক জীবনের পবিত্রতা। কিন্তু মানুষের দুর্বলতা ওঅক্ষমতা অনেকসময়েই এই জীবনের পবিত্রতাকে নষ্ট করে থাকে। কিন্তুমানুষের জীবনেরউর্দ্ধে বৈবাহিক সম্পর্ক নয়। সে কারণেই এই সূরাতে বিবাহবিচ্ছেদেরপ্রশ্নটিকে উদ্ধত ধর্মহীনতার প্রশ্নের সাথে সংযুক্ত করাহয়েছে যাশাস্তি যোগ্য অপরাধ।সার সংক্ষেপ : বিবাহ বিচ্ছেদের প্রাক্কালে মহিলাদের অধিকারসংরক্ষণকরতে হবে, উদ্ধত ধর্মহীনতাকে আল্লাহর নিকট শাস্তির যোগ্য [ ৬৫: ১ -১২ ] অপরাধ।
সূরা ত্বীন (العربية, উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা তীন বা ডুমুর - ৯৫৮ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এটিও একটি প্রাথমিক সূরা। এই সূরায়পবিত্রপ্রতীকের সাহায্যে বর্ণনা করা হয়েছে যে, মানুষকে সুন্দরতম গঠনেগঠনকরা হয়েছে। কিন্তু মানুষ যদি সৎ ও পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন না করে ওঈমাননা আনে তবে সে হীনতাগ্রস্থদের মধ্যেও হীনতমতে পরিণত হবে।বিষয়বস্তুরদিক থেকে এই সূরাটি ১০৩ নং সূরার ন্যায়।
সূরা কাহফ (العربية , উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.1
w3app9
সূরা কাহ্‌ফ - ১৮১১০ আয়াত, ১২ রুকু, মক্কী,[দয়াময় পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : সূরা xvii এর ভূমিকাতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, কিভাবেপ্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব কর্মের দ্বারা, চারিত্রিক গুণাবলীঅর্জনেরমাধ্যমে আত্মিক উন্নতি লাভ করতে পারে। আত্মিক উন্নতির ধর্মীয়ইতিহাসবর্ণনা করা হয়েছে এবং তা সাধারণ বর্ণনার আওতায় আনা হয়েছে।জীবন ক্ষণস্থায়ী ও রহস্যপূর্ণ, এই পাঠ এই বিশেষ মক্কী সূরাতে তুলেধরাহয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছে গুহা সঙ্গীদের কথা, যারা গুহার অভ্যন্তরেবহুবছর নিদ্রিত ছিলেন। কিন্তু তাদের ধারণা ছিলো তারা স্বল্প সময়ইসেখানেছিলেন। তারপরে বর্ণনা করা হয়েছে হযরত মুসার রহস্যময় শিক্ষকেরকথা।যিনি মুসাকে শিক্ষা দেন যে মানুষের জীবন এক রূপক কাহিনী। আরও আছেদুইশিং বিশিষ্ট জুলকারনাইনের কাহিনী। যিনি পূর্ব ও পশ্চিমেরঅধিপতিছিলেন, এবং অত্যাচারীদের থেকে দুর্বলকে রক্ষা করার জন্য লোহারদেয়ালতৈরী করেন। ক্ষণস্থায়ী, অনিশ্চিত , গৌরবান্বিত জীবনকে রূপককাহিণীরমাধ্যমে এই সূরাতে প্রকাশ করা হয়েছে। জীবনের অনেক কিছুইআপতঃদৃষ্টিতেসত্য বিরোধী মনে হলেও সত্যবিরোধী নয়। জীবনের প্রকৃত অর্থতখনই ভাস্বরহবে, যখন ধৈর্য্য ও জ্ঞানের মাধ্যমে তাদের বিচার করা হবে।পাপেরআক্রমণ থেকে আত্মিক জীবনকে রক্ষা করতে হবে।সার সংক্ষেপঃ কোরাণ হচ্ছে পথনির্দ্দেশ ও সর্তকবাণী। জীবন ক্ষণস্থায়ীওভাগ্যের উত্থান পতনের দ্বারা পরিবর্তনশীল। আমাদের সময়েরধারণাত্রুটিপূর্ণ; গুহা সঙ্গীদের গল্পের মাধ্যমে এই সত্যকে তুলে ধরাহয়েছে।গুহা সঙ্গীরা ছিলেন বিশ্বাসী, সত্যের পূজারী, ধৈর্য্যশীল এবংআরওঅন্যান্য গুণে সমৃদ্ধ। কিন্তু তাদের জীবন ছিলো রহস্যে আবৃত যারগভীরতাখুব অল্প সংখ্যক লোকই নির্ণয় করতে পারে [১৮: ১-২২]সকল জ্ঞানের উৎস এক আল্লাহ্‌। মিথ্যা অনুমান ও এর উপরে ভিত্তিকরেসম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া থেকে বিরত থাক। কোরাণ থেকে শিক্ষা নাওযে,পার্থিব বিষয়ে অহংকারে স্ফীত ব্যক্তির সব কিছুই বৃথা[১৮:২৩-৪৪]জীবন অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল। ধার্মিকতা ও গুণাবলী হচ্ছেচরিত্রেরস্থায়ী বস্তু। শেষ বিচারের দিন অবশ্যই আসবে, যেদিন আল্লাহ্‌রকরুণা ওক্রোধের প্রকাশ ঘটবে। [১৮:৪৫-৫৯]হযরত মুসা তাঁর জ্ঞানের পিপাসায় নিজের সীমানা ভুলে গিয়েছিলো। তাঁরউপরেধৈর্য্য ও বিশ্বাসের আদেশ দেয়া হয়। তাঁর কাছে যখন জীবনেরআপতঃদৃষ্টিতেসত্যবিরোধী , কিন্তু সত্যবিরোধী নয় এ দিকগুলি তুলে ধরাহয়, তিনি তাবুঝতে পারেন। [১৮:৬০-৮২]জুলকারনাইনের ছিলো বিশাল সাম্রাজ্য। তিনি দোষীকে শাস্তি দিতেন ওভালোকেপুরস্কৃত করতেন। তিনি দুর্বলকে অত্যাচারী থেকে রক্ষা করতেন।তাঁর ছিলোআল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস;এবং আল্লাহ্‌ তাঁকে পথ নির্দ্দেশদিতেন।আল্লাহ্‌ এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর জন্য কাজ করাই হচ্ছে পূণ্য।[১৮:৮৩-১১০]আবূ দার্দা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,‘‘যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্তকরবে,সেদাজ্জালের(ফিৎনা) থেকে পরিএাণ পাবে।’’ অন্য বর্ণনায় ‘কাহফসূরার শেষদিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। (মুসলিম ৮০৯)
সূরা ক্বেয়ামাহ (العربية ,উচ্চারণ,অর্থ,English,Mp3) 1.0
w3app9
সূরা কিয়ামত বা পুণরুত্থান - ৭৫৪০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই সূরাটিও প্রাথমিক মক্কী সূরা। তবেপূর্বেরসূরা দুটি অবতীর্ণ হওয়ার বেশ পরে এটি অবতীর্ণ হয়।এই সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে মৃত্যুর পরে পুণরুত্থান।পুণরুত্থানেরমাধ্যমে দেখানো হয়েছে সেই সব লোকদের মনঃস্তাত্বিক ইতিহাসযাদেরবর্তমানে বা ভবিষ্যতে কখনই সংশোধন করা সম্ভব নয়।
সূরা আল জিন (العربية ,উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা জিন্‌ -৭২২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই সূরাটি মক্কী সূরাগুলির শেষার্ধেঅবতীর্ণহয়। হিজরতের দুবছর পূর্বে এই সূরাটি অবতীর্ণ হয় সেই সময়েরাসুলের (সা)উপরে মক্কাবাসীদের অত্যাচার নির্যাতন চরম আকার ধারণকরেছিলো। তাদেরঘৃণিত আচরণ ও প্রত্যাখানের ফলে আল্লাহ্‌র রাসুল (সা)দ্বীন প্রচারেরউদ্দেশ্যে তায়েফ গমন করেন। কিন্তু তায়েফবাসীরা তাঁকেগ্রহণ করারপরিবর্তে তাঁর উপরে নির্যাতনের খড়্‌গ চালনা করে। রাসুলের(সা)সর্বোচ্চ মনঃকষ্টের কারণ ছিলো যা তা হচ্ছে তাঁর সাথে যে সবমোমেনবান্দারা গমন করেছিলেন তাদের প্রতি তায়েফবাসীদের নিষ্ঠুরনির্যাতন।তিনি ব্যর্থ মনোরথ হয়ে মক্কাতে ফিরে আসেন। মক্কাতে ফেরার পথেতাঁরসম্মুখে অলৌকিক দৃশ্যের দ্বার উম্মুক্ত হয়। তিনি দেখেন যেঅদৃশ্যআত্মারা তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ; যদিও তাঁর নিজসম্প্রদায়েরলোকেরা তাঁকে প্রত্যাখান করে এবং নির্যাতন করে থাকে। এইঘটনার দুমাসেরমধ্যেই মদিনা থেকে আগত দুজন আগন্তুক গোপনে হযরতের (সা)কাছে ইসলামগ্রহণ করেন। আর এটাই ছিলো হিযরতের ভিত্তিপ্রস্তর যাপরবর্তীতে আরব তথাসমগ্র বিশ্বের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেয়।
সূরা আন-আম (العربية ,উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা আল্‌-আন্‌-আম বা পশু - ৬আয়াত ১৬৫, রুকু ২০, মাক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে]ভূমিকা : ক্রম অনুযায়ী মক্কার অবতীর্ণ সূরাগুলির মধ্যে এইসূরাটিরঅবস্থান শেষাংশে। এই সূরার অধিকাংশ মক্কাতেই নাযেল হয়। কোরআনশরীফে এইসূরাটি অবস্থান যক্তিযুক্তভাবে প্রথাগত নিয়ম অনুসরণ করাহয়েছে। এপর্যন্ত আমরা মানব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ইতিহাস অবলোকনকরেছি,পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশের আলোচনা এবং কিভাবে দূর্নীতি রাহুগ্রস্থহয়েহায়িয়ে যায় তা বলা হয়েছে। নূতন সম্প্রদায়ের সংঘবদ্ধ জীবনপ্রণালী,আল্লাহ্‌র একত্বে বিশ্বাস যা ইসলামের (হযরত ইব্রাহীমের ধর্ম)মূলমন্ত্র তা থেকে ইহুদী ও খৃষ্টান সম্প্রদায়ের বিচ্যুতি এসববিষযেআলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরব মোশরেক-দের পৌত্তলিকতাকেএএকত্ববাদের পটভূমিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।সার-সংক্ষেপ : আল্লাহ্‌র প্রকৃতি এবং যে ভাবে বিশ্ব প্রকতিরমালিকনিজেকে প্রকাশ করেন তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং সেই সাথেমোশরেকদেরবহু-ঈশ্বরাবাদের গুরুত্বহীনতাকে তুলে ধরা হয়েছে।[৬:১-৩০]এই অপূর্ব সুন্দর পৃথিবী আল্লাহ্‌র বিষ্ময়কর সৃষ্টির অপূর্বনিদর্শন।কিন্তু এই সুন্দর পৃথিবীর জীবন পরকালের জীবনের তুলনায়মূল্যহীন। যাকিছু অদৃশ্য,অশ্রুত গোপনীয় সবই আল্লাহ্‌ জ্ঞাত।[৬:৩১-৬০]এই পৃথিবীর সৃষ্টিতে, এর রক্ষণাবেক্ষণ, ধারাবাহিকতা সবই সেইস্রষ্টারএকাত্বের দিকে ইঙ্গিত করে। একথা হযরত ইব্রাহীমের কথাই স্মরণকরিয়েদেয়, যিনি মুশরিকদের সাথে যুক্তিকে লিপ্ত হয়েছিলেন।[৬:৬১-৮২]হযরত ইব্রাহীমের বংশধরের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাঁর সত্যকে চিরদিনভাস্বররেখেছেন এবং শেষ প্রর্যন্ত তা কোরআন শরীফে এসে শেষ হয়। যদিকেউআল্লাহ্‌র সৃষ্টিকে অনুধাবন করেতে চেষ্টা করে এবং সৃষ্টিরসমন্বয়,ধারাবাহিকতার শৃঙ্খলা ইত্যাদি সম্বন্ধে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তাকরে,তবে এমন কি কেউ আছে যে আল্লাহর মহিমা, দয়া তার প্রত্যাদেশঅনুধাবনেব্যার্থ হবে।' [৬:৮৩-১১০]অবাধ্য ও বিদ্রোহীরাই প্রতারিত হয়। তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে।যদিওতারা পরস্পর পরস্পরের সহযোগী তবুও তারা শাস্তি এড়াতে পারবেনা।[৬:১১১-১২৯]বিদ্রোহীদের অপরাধ ও কুসংস্কার সত্বেও আল্লাহ্‌র হুকুমপ্রতিষ্টিতহবেই। [৬:১৩০-১৫০]সরলপথের অনুসরণ করাই হচ্ছে উত্তম পথ। কোরআনের নিদ্দের্শ অনুযায়ীএইহচ্ছে আল্লাহ্‌ নির্দ্দেশিত পথ। সুতরাং এই পথকে অনুসরণ করারজন্যআমাদের একতাবদ্ধ ভাবে জীবন উৎসর্গ করতে হবে। [৬:১৫১-১৬৫]
সূরা আলাক (العربية, উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা ইক্‌রা বা পড় অথবা ঘোষণা কর - ৯৬অথবা আলাক্‌ বা জমাট রক্ত পিন্ড -৯৬১৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : ৪০ বৎসর বয়সে হেরা পর্বতের গুহায়সর্বপ্রথমতাঁর এই সূরার [ ১ - ৫ ] পাঁচটি আয়াত রাসুলের নিকট সরাসরিঅবতীর্ণ হয়এটাই ছিলো প্রথম ওহী। এর পরে কয়েক মাস বা সম্ভবতঃ এক বছরেরবিরতি[Fatra] ছিলো। সূরা নং ৬৮ কে বলা হয় এই পাঁচটি আয়াতের পরেঅবতীর্ণদ্বিতীয় ওহী। কিন্তু এই সূরার পরবর্তী অংশ [ ৯৬ : ৬ - ১৯]দীর্ঘবিরতির পরে অবতীর্ণ হয়,এবং এই অংশকে পূর্বের পাঁচটি আয়াতের সাথেযুক্তকরা হয়, যেখানে আদেশ দান করা হয়েছে সত্য জ্ঞান প্রচারের জন্য।পরবর্তীঅংশ সংযুক্ত করার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, এই সত্য ওজ্ঞানকেপ্রচারের প্রধান বাঁধা হচ্ছে মানুষের একগুঁয়েমী,অহংকার এবংউদ্ধতপনা।দেখুন সূরা মুজাম্মিলের [ ৭৩ নং ] ভূমিকা।
সূরা মুতাফীফ (العربية,উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা মুতাফ্‌ফিফীন বা প্রবঞ্চক -৮৩৩৬ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই সূরাটি, পূর্ববর্তী ও পরবর্তীসূরারসমসাময়িক।এই সূরার মাধ্যমে সকল প্রকার প্রতারণাকে নিন্দা করা হয়েছে। বিশেষভাবেধর্মের ব্যাপারে এবং প্রতিদিনের জীবন যাপন প্রণালীতে।
Al Quran English Tafseer 1.0.0
w3app9
Al Quran English Tafseer
সহীহ কুরআন শরীফ (পারা ৯) 1.0.0
w3app9
সহীহ কুরআন শরীফ (পারা ৯)
সূরা কাওসার (العربية, উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা কাওছার বা প্রাচুর্য - ১০৮৩ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এটি একটি ছোট, প্রাথমিক মক্কী সূরা,যারসারমর্ম এক কথায় কাওছার এই শব্দটি দ্বারা বুঝানো হয়েছে। শব্দটিদ্বারাআন্তরিকতা ও আত্মোৎসর্গের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি অর্জনকরাবুঝানো হয়। সূরাটিতে আরও বলা হয়েছে যে ঘৃণা ও বিদ্বেষ আত্মাকেক্ষয়করে ফেলে এবং ফলে ইহকাল ও পরকালের সকল আশার আলো নির্বাপিতহয়েযায়।
সূরা লোকমান (العربية ,উচ্চারণ, অর্থ,English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা লূকমান বা জ্ঞানী - ৩১৩৪ আয়াত, ৪ রুকু , মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : এই সূরাতে সকল কিছুর শেষ পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছেভিন্নদৃষ্টিভঙ্গি থেকে। জ্ঞান বা দিব্যজ্ঞান কি ? কোথায় তাকেঅনুসন্ধান করাযায় ? এ জ্ঞান কি সময় ও প্রকৃতির রহস্য, পার্থিব জগতেরউর্দ্ধে যেজগতের অবস্থান তার রহস্য সমাধান করে এবং আল্লাহ্‌রসান্নিধ্য পৌঁছিয়েদেয় ? উত্তর হবে হ্যাঁ। জ্ঞানী লুকমানের উপদেশহচ্ছে, যদি মানব,আল্লাহ্‌র এবাদতের মাধ্যমে নিজস্ব জ্ঞানের পরিমন্ডলকেবিস্তৃত করতেচায়, জীবনের প্রতিটি কাজকে দয়া ও সহমর্মিতায় মহিমান্বিতকরে, মিথ্যাকেপরিহার করে, যা কিছু আল্লাহ্‌র আইনকে লঙ্ঘন করে তা থেকেবিরত থাকেএই-ই হচ্ছে জীবনকে গুণান্বিত করার সঠিক ও সহজ রাস্তা। বিশ্বপ্রকৃতিরমাঝেও এ সত্য নিহিত আছে।এই সূরার অবতীর্ণ হওয়ার সময়ের কোনও বিশেষ বৈশিষ্ট্য নাই। এইসূরাপ্রধানতঃ অবতীর্ণ হয় মক্কাতে অবস্থানের শেষার্ধে।সার সংক্ষেপ : যারা পূণ্যের অনুসন্ধান করে, তারা আল্লাহ্‌রনির্দ্দেশিতপথের সন্ধান লাভ করে। যারা তা না করে আত্ম অহংকারে মত্তথাকে তদেরঅনিবার্য পরিণতি ধ্বংস। সৃষ্টির সকল কিছুই এই সত্যিরসাক্ষ্য দেয়।জ্ঞানী লুকমান ব্যাখ্যা করেন যে,জ্ঞানের মাধ্যমেইআল্লাহ্‌র প্রকৃতসেবা করা যায়। [ ৩১ : ১ - ১৯ ]।দিব্য জ্ঞান মানুষকে ধৈর্যশীল ও দৃঢ় করে এবং সৃষ্টির মাঝেআল্লাহ্‌রআইনকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। আল্লাহ্‌র আইন প্রতিটিবস্তুর শেষপরিণতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যার রহস্য জানেন একমাত্রআল্লাহ্‌ [৩১ : ২০ - ৩৪ ]।
সূরা আল মুলক (العربية ,উচ্চারণ, অর্থ,English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা মুল্‌ক বা সম্রাজ্য - ৬৭৩০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এতক্ষণে আমরা কোরাণ শরীফের পনের ভাগেরচৌদ্দভাগ শেষ করেছি। এ পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে ধাপে ধাপে দেখানোহয়েছেউম্মার মুসলিম ভাতৃত্বের বিকাশের অগ্রগতি।এই সূরাতে এসে ধারাবাহিকতাতে সাময়িক যতি টানা হয়েছে। পরবর্তীপনেরটিসূরা হচ্ছে গীতি কবিতা। এর অধিকাংশ মক্কাতে অবতীর্ণ। এইসূরাগুলির মূলবিষয়বস্তু হচ্ছে মানুষের আধ্যাত্মিক জীবন। এগুলিকে অন্যধর্মেরপ্রার্থনা সঙ্গীত বা ধর্মীয় সংগীতের সাথে তুলনা করা চলে যাআধ্যাত্মিকভাবধারাতে পূর্ণ। কোরাণের এই সূরাগুলি বিশেষবৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এগুলিরসৌন্দর্য, গভীর অর্থ, মহনীয়তা, চমৎকারিত্ব এবংসর্বপরি মনের উপরে এরপ্রভাব, অতুলনীয়। যেহেতু এই সূরাগুলির উৎসমহাজ্যোতির্ময় প্রভুর মহানঅস্তিত্বকে ধারণ করে, সেহেতু এগুলিরহেদায়েতের আলো অন্তরের গভীরঅন্ধকারকে বিদির্ণ করে প্রবেশ লাভে সক্ষম।যদিও ক্ষণস্থায়ী পার্থিবজীবনকেই মনে হয় প্রকৃত সত্য, কিন্তুপ্রকৃতপক্ষে তা হচ্ছে প্রকৃতজীবনের নগন্য ও সামান্য পরিমাণ এবং দ্রুতঅপসৃয়মান। এ সব সূরারভাবধারাকে প্রকাশের জন্য অনেক ক্ষেত্রেইপ্রতীকধর্মী ভাষা ব্যবহার করাহয়েছে যা আমাদের চেনা জানার জগতেরআধ্যাত্মিক দিগন্তকে উন্মোচিতকরে।পরলোকের অনন্ত জীবনের তুলনায় ইহলোকের অস্তিত্ব ছায়ার ন্যায়।বাইরেরচাকচিক্যময় পার্থিব জীবন ও গভীর আধ্যাত্মিক জীবনের তুলনারমাধ্যমেআমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।এই সূরাটি মধ্য মক্কান সূরা ; ৬৯ ও ৭০ নং সূরার অবতীর্ণহওয়ারপূর্বক্ষণে এ সূরাটি অবতীর্ণ হয়। এ সূরাতে আল্লাহকে সম্বোধন করাহয়েছেরাহমান [ পরম করুণাময় ] হিসেবে। যে ভাবে তাঁকে সম্বোধন করা হয়েছেরব [প্রভু ও প্রতিপালক ] এবং রাহ্‌মান হিসেবে ৬৯ নং সূরাতে।সূরা মূলক-এর ফজিলতহজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; " কোরআন শরীফে ৩০ আয়াত বিশিষ্টএকটি সূরাআছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে না দেয়া পর্যন্ত তারজন্যসুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হলো تبارك الذي بيدهالملك.--‪#‎তাবারাকাল্লাযী‬ বি ইয়াদিহিল মূলক অর্থাৎ ‪#‎সূরা‬ মূলক…(আবুদাউদ-১৪০২, তিরমিজি-২৮৯১, ইবনে মাজাহ-৩৭৮৬, মুসনাদেআহমদ-২/২৯৯)অন্য এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন," আমারমনচায় প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে যেনো সূরা মূলক মুখস্ত থাকে।"[বায়হাকীরশুআবুল ইমান-২৫০৭]আরেকটি এক হাদিসে বর্ণিত আছে, যে এ সূরা তেলাওয়াতকারীর আমলনামায়অন্যসূরার ‪#‎তুলনায়_৭০‬ টি নেকী বেশি লিখা হবে এবং ‪#‎৭০টি‬ গোনাহমুছেফেলা হবে। (তিরমিজি-২৮৯২)আর যে ব্যক্তি নিয়মিত সুরা মূলকের আমল করবে সে ‪#‎কবরের‬ আজাবথেকেমুক্তি পাবে। (তিরমিজি-২৮৯০, মুসতাদরাকে হাকেম)হাদীসে আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো রাতে সুরামূলকনা পড়ে ঘুমাতেন না। (তিরমিজি-২৮৯২, হিসনে হাসিন)৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,‘কুরআনের তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে , যা তার পাঠকারীরজন্যসুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে,সেটাহচ্ছে‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (সূরা মূলক)। (আবূদাউদ১৪০০)
সূরা ইউনুস (العربية ,উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা ইউনুস বা জোনাহ্‌ (Jonah)- ১০১০৯ আয়াত, ১১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : এই সূরাটি এবং পরবর্তী পাঁচটি সূরা [সূরা ১১, ১২, ১৩, ১৪এবং১৫] পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এই সূরাগুলি মক্কার শেষের দিকে অবতীর্ণহয়;যখন মক্কা থেকে মদিনাতে হিজরতের সময়কাল প্রায় নিকটবর্তী।অবশ্যহিজরতের সাথে তার কোন সম্পর্ক নাই।এই ছয়টি সূরার বিষয়বস্তুর মধ্যে সামঞ্জস্য বিদ্যমান। সূরা ৮ এবং৯-এপ্রধানতঃ নূতন মুসলমান সম্প্রাদায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।নূতনমুসলমান সম্প্রদায়ের অভ্যুত্থান, সংগঠন, আদর্শ এবং সর্বপরি এরপ্রচারএবং প্রসার সমসাময়িক আরব মোশরেকদের ভীত ও সন্ত্রস্ত করে তোলে।তারাইসলামকে সমূলে বিনাশ সাধন করতে তৎপর হয়ে ওঠে। সূরাগুলিরভূমিকাতেদেখুন। এই সূরাগুলির বিষয়বস্তু হচ্ছে, বহিঃ শত্রুতাকে কিভাবেমোকাবিলাকরতে হবে, আল্লাহর সাথে পৃথিবীর মানব সম্প্রদায়ের সম্পর্কেরভিত্তি।কিভাবে প্রত্যাদেশ কাজ করে? আল্লাহর করুণার অর্থ কি? এবং এইকরুণাথেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থই বা কি?আল্লাহ্‌র রসুলরা কিভাবে তাদের প্রতি অর্পিত আল্লাহরপ্রত্যাদেশপ্রচারিত করেন। মানব সম্প্রদায় কিভাবে তা গ্রহণ করবে?ইত্যাদি বিভিন্নবিষয়বস্তুর অবতারণা করা হয়েছে সূরাগুলিতে। ১৩ নম্বরসূরাটি ব্যতীতঅন্যান্য সব সূরারই প্রথমে "আলিফ", "লাম", "রা" এই তিনটিসংক্ষিপ্তঅক্ষর সংযুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতীকধর্মী। ১৩ নম্বর সূরাটিরউপরে"আলিফ", "লাম" "মিম", "রা' এই চারটি সংক্ষিপ্ত অক্ষর সংযুক্তকরাহয়েছে। এই সূরাটির এই বিভিন্নতা আমরা ১৩ নম্বর সূরার সময়েআলোচনাকরবো।এই ভূমিকাতে শুধুমাত্র ১০ নম্বর সূরাটি সম্বন্ধেই আলোচনা করা হবে।এইসূরাটির মর্মবাণী হচ্ছে : আল্লাহ এই বিশাল বিশ্বভূবন সৃষ্টিকরেছেনশুধুমাত্র আমাদের ভোগ বিলাসের জন্য নয়, শুধুমাত্র সৃষ্টি ওধ্বংসেরজন্য নয়। তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি শুধুমাত্র বস্তুগত সৃষ্টিরমধ্যেসীমাবদ্ধ নয়, এর উদ্দেশ্য বহু উর্দ্ধে, মহত্বর কারণের জন্য।সবচেয়েঅত্যাচার্য হচ্ছে আল্লাহ্‌কে আমরা আমাদের চর্মচক্ষে দেখতে পাইনা,কিন্তু তাঁকে আমরা আমাদের আত্মার মধ্যে অনুভব করতে পারি। যুগেযুগেনবী রসুলের মাধ্যমে, কিতাবের মাধ্যমে তাঁর প্রত্যাদেশ আমাদেরনিকটপ্রকাশিত হয়। এই সূরাতে বর্ণনা করা হয়েছে, কিভাবে রসুলেরাপ্রত্যাখাতহয়েছেন যুগে যুগে এবং কিভাবে সাধারণ মানুষ আল্লাহরপ্রত্যাদেশকেঅবিশ্বাস করেছে এবং শেষ মূহুর্তে অনুতাপের মাধ্যমে ফিরেএসেছে। এইসূরাতে বর্ণনা করা হয়েছে, ইউনুস নবীর ক'থা এবং তার সময়েরলোকদের কথা।এই সব লোকেরা আল্লাহর প্রত্যাদেশকে প্রত্যাখান করেছিলো।কিন্তু যেমূহুর্তে তারা অনুতাপ করেছে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকেবঞ্চিত হয়নাই। আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা আমাদের ধারণার অতীত যা আমাদেরবিধৌতকরতে সর্বদা উদগ্রীব।সারসংক্ষেপ : বিশ্ব-বিধাতা আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ মানব কূলেরহৃদয়েঅপূর্ব অত্যাচার্যভাবে প্রভাব বিস্তার করে। আল্লাহরপ্রত্যাদেশব্যতীতও তাঁর হাতের পরশ সমস্ত সৃষ্টিতে বিদ্যমান। চন্দ্র,সূর্য,তরু-লতা, আকাশ-বাতাস, দিন-রাত্রি, প্রকৃতির পরিবর্তন ইত্যাদিরমাধ্যমেআল্লাহ্‌ আমাদের তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণকরেছেন[১০:১-২০]জীবনের সকল সৌন্দর্য্য এবং ভালো সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু বিশ্ববিধাতাআল্লাহ। মানুষ অন্ধ, তাই এসব দেখেও সে আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব অনুভবকরতেপারে না [১০:২১-৪০]।সব কিছুর শুরু আল্লাহ্‌, এবং তাঁর কাছেই সব কিছু প্রত্যার্পনকরবে।তাঁর কাছেই সব কিছুর শেষ। তিনিই একমাত্র সত্য। মানুষ আল্লাহরপ্রেরিতসত্যকে গ্রহণ করার পরিবর্তে আল্লাহর সাথে শরীক গ্রহণ করে যাসত্যবিমূখ- কারণ মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ। [১০:৪১-৭০]আল্লাহ্‌ নূহ্‌ নবীকে প্রত্যাদেশের মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্বকেপ্রকাশকরেন, কিন্তু নূহ্‌ নবীর সমসাময়িক লোকেরা তা প্রত্যাখান করে,পরিণামেতারা ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ্‌ হযরত মুসার (আ) মাধ্যমে ফেরাউনেরসাথেকথা বলেন। কিন্তু ফেরাউন তা বিশ্বাস করে না, কারণ সে ছিল অবাধ্যওএকগুয়ে। শেষ মহুর্তে ফেরাউন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাতে বিশ্বাসস্থাপনকরেছিলো কিন্তু তখন অনুতাপের সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল[১০:৭১-৯২]।আল্লাহ্‌র প্রতি অবিশ্বাস মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে। ইউনুস নবীরসমসাময়িকজনগণ অনুতপ্ত হয়েছিলো। ফলে তারা আল্লাহ্‌র রহমত ও করণীয়ধ্বংস থেকেরক্ষা পেয়ে যায়। ঠিক সেইভাবে যারা বিশ্বাসী বা ঈমানদারব্যক্তি, আল্লাহতাঁদের ধ্বংস থেকে রক্ষা করবেন। যখনই আল্লাহর সত্য(প্রত্যাদেশ)প্রকাশিত হয় যা অনুসরণ করা এবং বিপদে ও দুর্যোগে ধৈর্য্যধারণ করাকর্তব্য। কারণ আল্লাহ্‌ সুক্ষ বিচারক [১০:৯৩-১০৯]
সূরা ওয়াক্বিয়া (العربية ,উচ্চারণ,অর্থ,English,Mp3) 1.0
w3app9
সূরা ওয়াকি'আ বা অপরিহার্য ঘটনা - ৫৬৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : এই শ্রেণীর এটা হলো সপ্তম বা শেষ সূরা। দেখুন ৫০নংসূরারভূমিকা।দুই একটি আয়াত বাদে সম্পূর্ণ সূরাটির অবতীর্ণ স্থান মক্কা।বিষয়বস্তু হচ্ছে শেষ বিচারের দিন এবং প্রতিটি বিষয়ের প্রকৃতমূল্যমানেরপ্রতিষ্ঠা ; [ ৫৬ : ১ - ৫৬ ] ; আল্লাহ্‌র ক্ষমতা, গুণাবলীও মহিমা [ ৫৬: ৫৭ - ৭৪ ] ; এবং প্রত্যাদেশের সত্য [ ৫৬ : ৭৫ - ৯৬]।সার সংক্ষেপ : যখন রোজ কেয়ামত উপস্থিত হবে, পৃথিবীর মূল ভিত্তিকেঁপেউঠবে। মানুষকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছেঃ যারা আল্লাহ্‌র অতিনিকটেতারা সর্বোচ্চ প্রশান্তি ও সম্মান প্রাপ্ত ; ডানদিকের সঙ্গীযাদেরমাঝে প্রশান্তি বিরাজ করবে এবং বাম দিকের সঙ্গী যাদের মাঝেদুর্দ্দশাও কষ্ট বিরাজ করবে। [ ৫৬ : ১ - ৫৬ ]।প্রত্যাদেশ আল্লাহ্‌র ক্ষমতা, গুণাবলী ও মহিমার নিদর্শন যামানুষকেআল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ গ্রহণে ও মহিমা কীর্তনে অনুপ্রাণীত করে [৫৬ :৫৭ - ৯৬ ]।সুরা আর রাহমান, সুরা হাদিদ ও সুরা ওয়াকিয়া’র তেলাওয়াতকারীকেকেয়ামতেরদিন জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হিসেবে ডাকা হবে। অন্য একহাদিসেআছে, সুরা ওয়াকিয়াহ হলো ধনাঢ্যতার সুরা, সুতরাং তোমরা নিজেরা তাপড়এবং তোমাদের সন্তানদেরকেও এ সুরার শিক্ষা দাও। অন্য এক বর্ণনায়আছে:তোমাদের নারীদেরকে এ সুরার শিক্ষা দাও। আম্মাজান হজরত আয়েশা [রা.]কেএ সুরা তেলাওয়াত করার জন্য আদেশ করা হয়েছিল। তাছাড়া এ সুরাশারিরিকসুস্থতা রক্ষা ও অসুস্থতা দূরীকরণেও উপকারী। ইমাম গাজালী রহ.বলেন:মাশায়েখদের কাউকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আমাদের আওলিয়ায়েকিরামেরমধ্যে যে অভাবের সময় সুরা ওয়াকিয়াহ তেলাওয়াতের আমল জারী আছেতারউদ্দেশ্য কি এটা নয় যে, এর উছিলায় আল্লাহ তায়ালা যেনো অভাব মোচনকরেদেন এবং দুনিয়াবী প্রাচুর্য দান করেন, তাহলে আখেরাতের আমলদিয়েদুনিয়াবী সম্পদ কামনা করা কি বৈধ হলো? তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন,এআমলের দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আল্লাহ তায়ালা যেনো তাদেরকেযেহালাতে রেখেছেন তার উপরই তুষ্ট থাকার তৌফিক দান করেন। অথবা এমনরিজিকদান করেন যার দ্বারা তারা ইবাদতের শক্তি যোগাবেন অথবা ইলমঅর্জনেরপাথেয় যোগাবেন। তাই এখানে দুনিয়া তলব করা উদ্দেশ্য হলো না বরংনেকীরকাজের উদ্দেশ্য করা হলো।
সূরা আল-ফুরকান (العربية ,উচ্চারণ,অর্থ,English,Mp3) 1.1
w3app9
সূরা ফুরকান বা মানদণ্ড - ২৫৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : জ্ঞানী ও মূর্খ , পূণ্যাত্মা ও পাপী , আত্মিক সমৃদ্ধিওআত্মিক অধঃপতনের মধ্যে বৈষম্য প্রদর্শনের মাধ্যমে তুলনা করার জন্যআলোও অন্ধকারের উপমাকে এই সূরাতে ব্যবহার করা হয়েছে। মোমেন বান্দারপরিচয়তার কর্মের মাধ্যমে। এই কর্মের সঞ্চার মাধ্যমে এই সূরাকে শেষকরাহয়েছে।এই সূরাটি প্রধানতঃ একটি মক্কী সূরা। কিন্তু এর অবতরণ কালসম্বন্ধেকোনও নির্দ্দিষ্ট সময় বা তারিখ জানা যায় না।সারসংক্ষেপ : মানুষের প্রতি আল্লাহ্‌র সর্বোচ্চ দান বা নেয়ামতহচ্ছেতিনি মানুষকে ন্যায়, অন্যায় , পাপ ও পূন্যের মানদন্ড দানকরেছেন।আল্লাহ্‌ প্রত্যাদেশের মাধ্যমে আমাদের পরকালের অনন্ত জীবনেরতাৎপর্যসম্বন্ধে শিক্ষা দান করেন [ ২৫ : ১ - ২০ ]।যারা পৃথিবীতে এই মানদন্ড মেনে চলে না , শেষ বিচারের দিনেতাদেরঅবর্ণনীয় দুঃখ হবে। আল্লাহ্‌ সর্বদা, মানুষকে সাবধান করেদিয়েছেন। [২৫ : ২১ - ৪৪ ]।সূর্যকিরণ ও ছায়া , রাত্রি ও দিন , মৃত্যু ও জীবন এবংআল্লাহ্‌রসৃষ্টির শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের অনুধাবনের মাঝে, মানুষের জন্যনিহিত আছেআল্লাহ্‌র মহত্বকে অনুধাবনের ও শিক্ষার ব্যবস্থা। মোমেনবান্দারগুণাবলীই তাকে আল্লাহ্‌র তত্ববধানের উপযুক্ত করে। [ ২৫ : ৪৫ -৭৭]।
সূরা আছর (العربية, উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা আসর বা মহাকাল - ১০৩৩ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময় পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভুমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই মক্কী সূরাতে মহাকালের শপথ করাহয়েছে।ইতিহাস সাক্ষ্য দান করে যে মন্দের শেষ পরিণতি সব সময়ে মন্দইহবে।কিন্তু যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য সৎ কাজ করেএবংপূত পবিত্র জীবন যাপন করে ও অন্যকেও সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দানকরেতাদের শেষ পরিণতি মঙ্গলময়। দেখুন ৯৫ নং সূরার বিষয়বস্তু।
সূরা আন-নূর (العربية ,উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা নূর বা আলো - ২৪৬৪ আয়াত, ৯ রুকু , মাদানী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : আমাদের নৈতিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করার পরিবেশগত এবংসামাজিকপ্রধান উপকরণ হচ্ছে স্ত্রী -পুরুষের যৌন জীবন, বিশেষভাবে যখনএই যৌনজীবনকে অপব্যবহার করা হয়। যৌন জীবনকে অপব্যবহার করার ফলেমানুষেরইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ বিনষ্ট হয়। মানুষ বিভিন্নভাবে যৌনজীবনকেকলুষিত করে থাকে। উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনের মাধ্যমে, অথবা মিথ্যাকলঙ্কআরোপ করে, অথবা পরিশুদ্ধ গার্হস্থ্য জীবনের চুক্তি ভঙ্গেরদ্বারা।জীবন পথের বাঁকে বাঁকে থাকে যৌন জীবনকে কলুষিত করার ফাঁদ। যেএই সবফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, তাঁর আত্মাই পারেআল্লাহ্‌র'আলোকে' আত্মার মাঝে ধারণ করতে; আত্মাকে পূত পবিত্ররূপেপরিশুদ্ধকরতে, - সৃষ্টির আদিতে তাকে যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিলো। এইসূরার মূলবিষয়বস্তুকে এ ভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।মহিলাদের প্রতি মিথ্যা কলঙ্ক আরোপ করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ করা হয়েছে [২৪: ১১ - ২০ ]। এই আয়াতটি হযরত আয়েশার জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্রকরেঅবতীর্ণ হয় , ৫ - ৬ হিজরীতে। সূরাটির অবতরণের সময়পুঞ্জিঅনুসারেসূরাটি হবে মদিনার সূরা।সারসংক্ষেপ : যৌন কলুষতাকে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে দমন করতে হবে।কিন্তুএ ব্যাপারে প্রকৃত সাক্ষী প্রমাণের প্রয়োজন হবে। মহিলাদেরসম্বন্ধেমিথ্যা কলঙ্ক রটনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মেয়েদের সম্বন্ধে লঘুকথা বলাবা তাদের অশালীনভাবে বিরক্ত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ [ ২৪ : ১ -২৬]।গোপনীয়তাকে সম্মান করতে হবে। পোষাক ও ব্যবহারে শালীনতা রক্ষা করেচলতেহবে [ ২৪ : ২৭ - ৩৪ ]।আলো এবং অন্ধকার; শৃঙ্খলা ও উচ্ছৃঙ্খলতার উপমাসমূহ দ্বারামানুষকেধর্মীয় কর্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করা হয়েছে [ ২৪ : ৩৫ -৫৭]।পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের আচার ব্যবহার চারিত্রিক গুণাবলীবিকাশেরমাধ্যম বিশেষ। আর চারিত্রিক গুণাবলী-ই মানব সন্তানকে আল্লাহ্‌রপ্রতিকর্তব্য কর্মে উদ্বুদ্ধ করে আধ্যাত্মিক মুক্তির পথ প্রদর্শন করে[ ২৪: ৫৮ - ৬৪ ]।
সূরা এখলাছ (العربية, উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা এখলাস বা [ঈমানের] পবিত্রতা - ১১২৪ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়,পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এটি একটি প্রাথমিক মক্কী সূরা। অল্পকয়েকটিশব্দের দ্বারা এই সূরাতে আল্লাহ্‌র একত্বের ঘোষণা প্রকাশ করাহয়েছে।এবং মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতাকে প্রকাশ করা হয়েছে।সূরা ইখলাস২) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (সূরা)‘কূলহুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন,“সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রান আছে, নিঃসন্দেহেএটিকুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”।৩) অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবাগনকে বললেন,‘তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অপারগ?’ প্রস্তাবটিতাদেরপক্ষে ভারী মনে হল। তাই তারা বলে উঠলেন ‘হে আল্লাহর রাসূল! একাজআমাদের মধ্যে কে করতে পারবে?’ ( অর্থাৎ কেও পারবে না।) তিনিবললেন,“কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ” (সূরা ইখলাস) কুরআনেরএকতৃতীয়াংশের সমতুল্য”। (অর্থাৎ, এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশেরকুরআনপড়ার সমান নেকী অর্জিত হয়।) (সহীহুল বুখারি ৫০১৫)৪) উক্ত সাহাবী (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন যে,এক ব্যক্তি কোন লোককে সূরাটি বারবার পড়তে শুনল। অতঃপর সেসকালেরাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিকট এসে তা ব্যক্ত করল। সে সূরাটিকে নগণ্যমনেকরেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, “সেই সত্তার শপথ! যার হাতেআমারপ্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এই সূরা (ইখলাস) কুরআনের একতৃতীয়াংশেরসমান”।(সহীহুল বুখারি ৫০১৫)৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (সূরা)‘কুলহুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন,“নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”। (মুসলিম ৮১২)৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্নিত,এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই (সূরা)‘কূলহুওয়াল্লাহু আহাদ’ ভালবাসি। তিনি বললেন, ‘ এর ভালবাসাতোমাকেজান্নাতে প্রবেশ করাবে’। (সহীহুল বুখারি ৭৭৪)
সূরা হাশর (العربية , উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা হাশ্‌র বা জনতা -৫৯২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : মদিনায় অবতীর্ণ ছোট সূরাগুলির মধ্যে দশটি সূরার যেশ্রেণীরউল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে এটি তৃতীয় নম্বর। এই শ্রেণীরসূরাগুলিতেমুসলিম উম্মার জীবন বিধানের বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণদিকগুলির আলোচনাকরা হয়েছে। এ ব্যাপারে দেখুন ৫৭ নং সূরার ভূমিকা। এইসূরার বিশেষ বিষয়হচ্ছে যে কিভাবে উম্মার বিরুদ্ধে যারা বিশ্বাসঘাতকতাকরেছিলো, তাদেরবিশ্বাসঘাতকতা তাদেরই পরাজয়ের কারণ হয়েছিলো। অপরপক্ষেবিশ্বাসঘাতকতারফলে উম্মার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে মৈত্রী বন্ধন দৃঢ়হয়। ইহুদীগোত্র বানু নাদিরের উদাহরণের সাহায্যে উপরের বক্তব্যকে তুলেধরাহয়েছে। ঘটনাটি সংঘটিত হয় ৪র্থ হিজরীর রবিউল মাসে।এখান থেকে সূরাটির অবতীর্ণ কাল সম্বন্ধে ধারণা করা যায়।সার সংক্ষেপ : বিশ্বাসঘাতক ইহুদীদের বিতারণ প্রক্রিয়ানির্বিঘ্নেসম্পন্ন হয়েছে। ইহুদীদের নিরাপদ দূর্গ ও মিত্র শক্তি তাদেররক্ষা করতেসক্ষম হয় নাই। সব কিছুই বৃথা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনামুসলিমসম্প্রদায়ের নিজেদের বন্ধনকে দৃঢ় করেছে। এ সকলই আল্লাহ্‌র জ্ঞানওপ্রজ্ঞার স্বাক্ষর। যিনি সুন্দর নামের যোগ্য। [ ৫৯ : ১ - ২৪ ]।
সূরা আল-হাশর 1.0
w3app9
সূরা হাশ্‌র বা জনতা -৫৯২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : মদিনায় অবতীর্ণ ছোট সূরাগুলির মধ্যে দশটি সূরার যেশ্রেণীরউল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে এটি তৃতীয় নম্বর। এই শ্রেণীরসূরাগুলিতেমুসলিম উম্মার জীবন বিধানের বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণদিকগুলির আলোচনাকরা হয়েছে। এ ব্যাপারে দেখুন ৫৭ নং সূরার ভূমিকা। এইসূরার বিশেষ বিষয়হচ্ছে যে কিভাবে উম্মার বিরুদ্ধে যারা বিশ্বাসঘাতকতাকরেছিলো, তাদেরবিশ্বাসঘাতকতা তাদেরই পরাজয়ের কারণ হয়েছিলো। অপরপক্ষেবিশ্বাসঘাতকতারফলে উম্মার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে মৈত্রী বন্ধন দৃঢ়হয়। ইহুদীগোত্র বানু নাদিরের উদাহরণের সাহায্যে উপরের বক্তব্যকে তুলেধরাহয়েছে। ঘটনাটি সংঘটিত হয় ৪র্থ হিজরীর রবিউল মাসে।এখান থেকে সূরাটির অবতীর্ণ কাল সম্বন্ধে ধারণা করা যায়।সার সংক্ষেপ : বিশ্বাসঘাতক ইহুদীদের বিতারণ প্রক্রিয়ানির্বিঘ্নেসম্পন্ন হয়েছে। ইহুদীদের নিরাপদ দূর্গ ও মিত্র শক্তি তাদেররক্ষা করতেসক্ষম হয় নাই। সব কিছুই বৃথা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনামুসলিমসম্প্রদায়ের নিজেদের বন্ধনকে দৃঢ় করেছে। এ সকলই আল্লাহ্‌র জ্ঞানওপ্রজ্ঞার স্বাক্ষর। যিনি সুন্দর নামের যোগ্য। [ ৫৯ : ১ - ২৪ ]।
সূরা কাহফ 1.0
w3app9
সূরা কাহ্‌ফ - ১৮১১০ আয়াত, ১২ রুকু, মক্কী,[দয়াময় পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : সূরা xvii এর ভূমিকাতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, কিভাবেপ্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব কর্মের দ্বারা, চারিত্রিক গুণাবলীঅর্জনেরমাধ্যমে আত্মিক উন্নতি লাভ করতে পারে। আত্মিক উন্নতির ধর্মীয়ইতিহাসবর্ণনা করা হয়েছে এবং তা সাধারণ বর্ণনার আওতায় আনা হয়েছে।জীবন ক্ষণস্থায়ী ও রহস্যপূর্ণ, এই পাঠ এই বিশেষ মক্কী সূরাতে তুলেধরাহয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছে গুহা সঙ্গীদের কথা, যারা গুহার অভ্যন্তরেবহুবছর নিদ্রিত ছিলেন। কিন্তু তাদের ধারণা ছিলো তারা স্বল্প সময়ইসেখানেছিলেন। তারপরে বর্ণনা করা হয়েছে হযরত মুসার রহস্যময় শিক্ষকেরকথা।যিনি মুসাকে শিক্ষা দেন যে মানুষের জীবন এক রূপক কাহিনী। আরও আছেদুইশিং বিশিষ্ট জুলকারনাইনের কাহিনী। যিনি পূর্ব ও পশ্চিমেরঅধিপতিছিলেন, এবং অত্যাচারীদের থেকে দুর্বলকে রক্ষা করার জন্য লোহারদেয়ালতৈরী করেন। ক্ষণস্থায়ী, অনিশ্চিত , গৌরবান্বিত জীবনকে রূপককাহিণীরমাধ্যমে এই সূরাতে প্রকাশ করা হয়েছে। জীবনের অনেক কিছুইআপতঃদৃষ্টিতেসত্য বিরোধী মনে হলেও সত্যবিরোধী নয়। জীবনের প্রকৃত অর্থতখনই ভাস্বরহবে, যখন ধৈর্য্য ও জ্ঞানের মাধ্যমে তাদের বিচার করা হবে।পাপেরআক্রমণ থেকে আত্মিক জীবনকে রক্ষা করতে হবে।সার সংক্ষেপঃ কোরাণ হচ্ছে পথনির্দ্দেশ ও সর্তকবাণী। জীবন ক্ষণস্থায়ীওভাগ্যের উত্থান পতনের দ্বারা পরিবর্তনশীল। আমাদের সময়েরধারণাত্রুটিপূর্ণ; গুহা সঙ্গীদের গল্পের মাধ্যমে এই সত্যকে তুলে ধরাহয়েছে।গুহা সঙ্গীরা ছিলেন বিশ্বাসী, সত্যের পূজারী, ধৈর্য্যশীল এবংআরওঅন্যান্য গুণে সমৃদ্ধ। কিন্তু তাদের জীবন ছিলো রহস্যে আবৃত যারগভীরতাখুব অল্প সংখ্যক লোকই নির্ণয় করতে পারে [১৮: ১-২২]সকল জ্ঞানের উৎস এক আল্লাহ্‌। মিথ্যা অনুমান ও এর উপরে ভিত্তিকরেসম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া থেকে বিরত থাক। কোরাণ থেকে শিক্ষা নাওযে,পার্থিব বিষয়ে অহংকারে স্ফীত ব্যক্তির সব কিছুই বৃথা[১৮:২৩-৪৪]জীবন অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল। ধার্মিকতা ও গুণাবলী হচ্ছেচরিত্রেরস্থায়ী বস্তু। শেষ বিচারের দিন অবশ্যই আসবে, যেদিন আল্লাহ্‌রকরুণা ওক্রোধের প্রকাশ ঘটবে। [১৮:৪৫-৫৯]হযরত মুসা তাঁর জ্ঞানের পিপাসায় নিজের সীমানা ভুলে গিয়েছিলো। তাঁরউপরেধৈর্য্য ও বিশ্বাসের আদেশ দেয়া হয়। তাঁর কাছে যখন জীবনেরআপতঃদৃষ্টিতেসত্যবিরোধী , কিন্তু সত্যবিরোধী নয় এ দিকগুলি তুলে ধরাহয়, তিনি তাবুঝতে পারেন। [১৮:৬০-৮২]জুলকারনাইনের ছিলো বিশাল সাম্রাজ্য। তিনি দোষীকে শাস্তি দিতেন ওভালোকেপুরস্কৃত করতেন। তিনি দুর্বলকে অত্যাচারী থেকে রক্ষা করতেন।তাঁর ছিলোআল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস;এবং আল্লাহ্‌ তাঁকে পথ নির্দ্দেশদিতেন।আল্লাহ্‌ এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর জন্য কাজ করাই হচ্ছে পূণ্য।[১৮:৮৩-১১০]আবূ দার্দা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,‘‘যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্তকরবে,সেদাজ্জালের(ফিৎনা) থেকে পরিএাণ পাবে।’’ অন্য বর্ণনায় ‘কাহফসূরার শেষদিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। (মুসলিম ৮০৯)
সূরা আল-মূলক 1.0
w3app9
সূরা মুল্‌ক বা সম্রাজ্য - ৬৭৩০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এতক্ষণে আমরা কোরাণ শরীফের পনের ভাগেরচৌদ্দভাগ শেষ করেছি। এ পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে ধাপে ধাপে দেখানোহয়েছেউম্মার মুসলিম ভাতৃত্বের বিকাশের অগ্রগতি।এই সূরাতে এসে ধারাবাহিকতাতে সাময়িক যতি টানা হয়েছে। পরবর্তীপনেরটিসূরা হচ্ছে গীতি কবিতা। এর অধিকাংশ মক্কাতে অবতীর্ণ। এইসূরাগুলির মূলবিষয়বস্তু হচ্ছে মানুষের আধ্যাত্মিক জীবন। এগুলিকে অন্যধর্মেরপ্রার্থনা সঙ্গীত বা ধর্মীয় সংগীতের সাথে তুলনা করা চলে যাআধ্যাত্মিকভাবধারাতে পূর্ণ। কোরাণের এই সূরাগুলি বিশেষবৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এগুলিরসৌন্দর্য, গভীর অর্থ, মহনীয়তা, চমৎকারিত্ব এবংসর্বপরি মনের উপরে এরপ্রভাব, অতুলনীয়। যেহেতু এই সূরাগুলির উৎসমহাজ্যোতির্ময় প্রভুর মহানঅস্তিত্বকে ধারণ করে, সেহেতু এগুলিরহেদায়েতের আলো অন্তরের গভীরঅন্ধকারকে বিদির্ণ করে প্রবেশ লাভে সক্ষম।যদিও ক্ষণস্থায়ী পার্থিবজীবনকেই মনে হয় প্রকৃত সত্য, কিন্তুপ্রকৃতপক্ষে তা হচ্ছে প্রকৃতজীবনের নগন্য ও সামান্য পরিমাণ এবং দ্রুতঅপসৃয়মান। এ সব সূরারভাবধারাকে প্রকাশের জন্য অনেক ক্ষেত্রেইপ্রতীকধর্মী ভাষা ব্যবহার করাহয়েছে যা আমাদের চেনা জানার জগতেরআধ্যাত্মিক দিগন্তকে উন্মোচিতকরে।পরলোকের অনন্ত জীবনের তুলনায় ইহলোকের অস্তিত্ব ছায়ার ন্যায়।বাইরেরচাকচিক্যময় পার্থিব জীবন ও গভীর আধ্যাত্মিক জীবনের তুলনারমাধ্যমেআমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।এই সূরাটি মধ্য মক্কান সূরা ; ৬৯ ও ৭০ নং সূরার অবতীর্ণহওয়ারপূর্বক্ষণে এ সূরাটি অবতীর্ণ হয়। এ সূরাতে আল্লাহকে সম্বোধন করাহয়েছেরাহমান [ পরম করুণাময় ] হিসেবে। যে ভাবে তাঁকে সম্বোধন করা হয়েছেরব [প্রভু ও প্রতিপালক ] এবং রাহ্‌মান হিসেবে ৬৯ নং সূরাতে।সূরা মূলক-এর ফজিলতহজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; " কোরআন শরীফে ৩০ আয়াত বিশিষ্টএকটি সূরাআছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে না দেয়া পর্যন্ত তারজন্যসুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হলো تبارك الذي بيدهالملك.--‪#‎তাবারাকাল্লাযী‬ বি ইয়াদিহিল মূলক অর্থাৎ ‪#‎সূরা‬ মূলক…(আবুদাউদ-১৪০২, তিরমিজি-২৮৯১, ইবনে মাজাহ-৩৭৮৬, মুসনাদেআহমদ-২/২৯৯)অন্য এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন," আমারমনচায় প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে যেনো সূরা মূলক মুখস্ত থাকে।"[বায়হাকীরশুআবুল ইমান-২৫০৭]আরেকটি এক হাদিসে বর্ণিত আছে, যে এ সূরা তেলাওয়াতকারীর আমলনামায়অন্যসূরার ‪#‎তুলনায়_৭০‬ টি নেকী বেশি লিখা হবে এবং ‪#‎৭০টি‬ গোনাহমুছেফেলা হবে। (তিরমিজি-২৮৯২)আর যে ব্যক্তি নিয়মিত সুরা মূলকের আমল করবে সে ‪#‎কবরের‬ আজাবথেকেমুক্তি পাবে। (তিরমিজি-২৮৯০, মুসতাদরাকে হাকেম)হাদীসে আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো রাতে সুরামূলকনা পড়ে ঘুমাতেন না। (তিরমিজি-২৮৯২, হিসনে হাসিন)৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,‘কুরআনের তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে , যা তার পাঠকারীরজন্যসুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে,সেটাহচ্ছে‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (সূরা মূলক)। (আবূদাউদ১৪০০)
সূরা নাস 1.0
w3app9
সূরা নাস্‌ বা মানব জাতি -১১৪৬ আয়াত, ১ রুকু, মাদানী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এটি একটি মাদানী সূরা। পূর্বোক্ত সূরাকেযদিগলার হারের সাথে তুলনা করা হয়, তবে এই সূরাটি হবে সেই হারেরলকেট।পবিত্র কোরাণ শরীফের এটিই শেষ সূরা এবং সূরাটিতে মানুষকে উপদেশদানকরা হয়েছে মানুষের প্রতি আস্থা স্থাপন না করে আল্লাহ্‌র প্রতিবিশ্বাসস্থাপন করতে। কারণ আল্লাহ্‌-ই হচ্ছেন একমাত্র রক্ষাকারী বিপদবিপর্যয়থেকে। এই সূরাতে বিশেষ ভাবে সাবধান করা হয়েছে অন্তরের মাঝেপাপের বামন্দের প্রলোভনের হাতছানি সম্বন্ধে। অর্থাৎ মানুষের রীপুসমূহযাআত্মাকে বিপথে চালিত করে।সূরা নাস্‌ বা মানব জাতি -১১৪৬ আয়াত, ১ রুকু, মাদানী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]১। বল, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ৬৩০৭ মানব জাতির প্রভু ওপ্রতিপালকের৬৩০৮, -২। মানব জাতির রাজা [ এবং শাসন কর্তার ],৩। মানব জাতির 'ইলাহের ' নিকট। ৬৩০৮৬৩০৭। সূরা ফালাক, বাইরের পৃথিবীর বিপদ বিপর্যয় থেকে নিজেকেনিরাপদকরার জন্য আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থনার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণকরাহয়েছে। এই সূরাতে আভ্যন্তরীন বিপদ বিপর্যয় থেকে অর্থাৎ আত্মরবিপদথেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য আল্লাহ্‌র নিরাপত্তা প্রার্থনাকরাহয়েছে। সূরা ফালাকে জাগতিক বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষারয়েছে,সূরা নাসে পারলৌকিক বিপদ আপদ ও মুসীবত থেকে আশ্রয় প্রার্থনারপ্রতিগুরুত্ব দেয়া হয়েছে।৬৩০৮। আল্লাহ্‌র সাথে মানুষের সম্পর্ক হচ্ছে স্রষ্টা ওসৃষ্টির।স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিরউপরেপ্রতিষ্ঠিত।১) আল্লাহ্‌ আমাদের প্রভু, সৃষ্টিকর্তা এবং প্রতিপালক।আল্লাহ্‌মানুষকে প্রতিপালন করেন এবং অনুগ্রহ দান করেন। তিনি মানুষকেবিভিন্ননেয়ামতে ধন্য করে থাকেন যার সাহায্যে সে ইহলৌকিক ও পারলৌকিককল্যাণসাধনে সক্ষম হয় এবং মন্দ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।২) আল্লাহ্‌ হচ্ছেন বিশ্বভূবনের অধিপতি, সুতারাং মানুষেরও অধিপতিওশাসক। পৃথিবীর যে কোন অধিপতি থেকে তিনি প্রচন্ড শক্তিশালী।আল্লাহ্‌মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনার ক্ষমতা রাখেন -যে পথে মানুষেরজন্য কল্যাণনিহিত আছে। তিনি মানুষকে জীবনধারণের জন্য বিধান দানকরেছেন।৩) "মানুষের ইলাহ্‌ " অর্থাৎ মানুষের একমাত্র উপাস্য, পৃথিবীরকর্মজগতশেষ করে প্রতিটি মানুষকে আল্লাহ্‌র নিকট ফিরে যেতে হবে কর্মজীবনেরজবাবদিহিতার জন্য [২ : ১৫৬ ]।সে বিচার সভায় আল্লাহ্‌-ই হবেন একমাত্র বিচারক। পরলোকেরজীবনেআল্লাহ্‌র সান্নিধ্য লাভই হচ্ছে মানুষের ইহ জীবনের একমাত্রলক্ষ্য ওউদ্দেশ্য। আল্লাহ্‌-ই মানুষের একমাত্র উপাস্য বা ইলাহ্‌। এসবদৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করেই মানুষ শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র নিকটতারইহলৌকিক ও পারলৌকিক সর্ব নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করবে।৪। আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার [ খান্নাসের ] অনিষ্টথেকে,৬৩০৯৫। যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, -৬৩০৯। মানুষকে আল্লাহ্‌ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দান করেছেন। তারফলেমানুষের স্বাধীনতা আছে ভালো বা মন্দকে গ্রহণ করার। এইস্বাধীনতারসুযোগ গ্রহণ করে থাকে শয়তান। সে মানুষের হৃদয়ের মাঝেআত্মগোপন করেথাকে এবং মনের ভিতর থেকে কৌশলে পরোক্ষ ভাবে প্রতারণাপূর্ণকুমন্ত্রণাদান করে, যেনো মানুষ তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির অপব্যবহারকরে। মানুষকেমন্দ পথে চালিত করার এই শক্তি হচ্ছে শয়তানের শক্তি অথবামানুষ রূপেবিরাজিত শয়তান রূপ মানুষ অথবা জ্বিন যারা ভবিষ্যতের রঙ্গীনস্বপ্নদ্বারা মানুষকে প্রতারিত করে বিপথে চালিত করে [ ৬ : ১১২ ]।এরামানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয় গোপনে এবং মানুষকে প্রলুব্ধ করেসরেদাঁড়ায় - এর ফলে তাদের আমন্ত্রণ মানুষের নিকট আরও মনোহর মনেহয়।৬। জ্বিন ও মানুষ জাতির মধ্যে থেকে ৬৩১০।৬৩১০। এই আয়াতটির দ্বারা কুমন্ত্রণার উৎপত্তি স্থলকে আরও বিশদভাবেবর্ণনা করা হয়েছে। এই কুমন্ত্রণা দাতা হতে পারে মনুষ্যরূপ শয়তানযাদেরচর্মচক্ষুতে দেখা যায় অথবা অদৃশ্য অশুভ শক্তি যেমন জ্বিন যারাঅন্তরেরভিতর থেকে কুমন্ত্রণা দান করে। দেখুন শেষের টিকা। আল্লাহ্‌আমাদেরঅবগতির জন্য বলেছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আল্লাহ্‌রনিরাপত্তাপ্রার্থনা করবো, পৃথিবীর কোন অশুভ শক্তি তা বাহ্যিকই হোকদৃশ্যতঃ হোকবা অদৃশ্যই হোক, আমাদের কোন ক্ষতি করতে সক্ষম হবে না।দেখুন [ ৭৬ : ৩০] আয়াতের টিকা ৫৮৬১।মন্তব্য : লাবীদ ইবন আসিম নামক এক ইহুদী তার কন্যাদেরসহযোগীতায়রাসুলুল্লাহ্‌ (সা) কে তাঁর একটি কেশে এগারোটি গ্রন্থি দিয়েযাদুকরেছিলো। এর প্রভাবে রাসুলুল্লাহ্‌ (সা) এর কষ্ট হচ্ছিল, তখন ১১আয়াতবিশিষ্ট সূরা ফালাক ও সূরা নাস্‌ এই দুটি সূরা অবতীর্ণ হয়,প্রতিটিআয়াত আবৃত্তি করে, ফুঁক দেয়া হলে, এক একটি গ্রন্থি খুলে যায়এবং যাদুরপ্রভাব বিদূরীত হয়।
সুরা আত-তারিক 1.0
w3app9
সূরা তারিক বা রাতের আগুন্তক - ৮৬১৭ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভুমিকা ও সারসংক্ষেপ : এই সূরাটিও প্রাথমিক মক্কী সূরারঅর্ন্তগত।সম্ভবতঃ পূর্বের সূরা থেকে এর সময়ের পার্থক্য খুব বেশীনয়।এর বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রতিটি আত্মার নিরাপত্তা রক্ষা করা হয়।মানুষেরনশ্বর দেহের মূল্য খুব বেশী নয়, কিন্তু আল্লাহ্‌ প্রদত্ত আত্মাহচ্ছেঅক্ষয় ও অমর এবং তার জন্য আছে উজ্জ্বল ভবিষ্যত -পরলোকেরজীবনে।সূরা তারিক বা রাতের আগুন্তক - ৮৬১৭ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]১। শপথ আকাশের ৬০৬৭ ও রাতের [ আকাশে ] আগমনকারীর ; ৬০৬৮৬০৬৭। এখানে আকাশের শপথের মাধ্যমে রাত্রির আকাশের নক্ষত্রের উল্লেখকরাহয়েছে। আল্লাহ্‌ আকাশ ও রাতের আকাশের নক্ষত্রের শপথের মাধ্যমেযেবক্তব্যের উপস্থাপন করেছেন তা উল্লেখ করা হয়েছে ৪ নং আয়াতে। " এমনকোনপ্রাণ নাই যার উপরে তত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয় নাই।" পূর্বেরসূরাতেউল্লেখ করা হয়েছে মোমেন বান্দাদের উপরে নির্যাতনের কথা এবং বলাহয়েছেআল্লাহ্‌ তাদের রক্ষা করেন। এই সূরাতেও সেই একই বিষয়ের উল্লেখকরাহয়েছে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। রাতের আকাশের নক্ষত্র মন্ডলীউজ্জ্বলভাবে অন্ধকার আচ্ছন্ন পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে থাকে। রাতেরঅন্ধকারেরপটভূমিতে কোটি কোটি যোজন দূর থেকে বিচ্ছুরিত নক্ষত্রের আলোমানুষেরমনকে কোন সূদুরের পানে নিয়ে যায়। এটি একটি রূপক বর্ণনা। ঠিকসেরূপহচ্ছে আধ্যাত্মিক জগত। মানুষের অজ্ঞতা অথবা বিপদ বিপর্যয়েঅথবাপার্থিব আকর্ষণের হেতু যখন তাদের আধ্যাত্মিক জগত অন্ধকারে ডুবেযায়তখন নক্ষত্রের আলোর ন্যায় আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশের আলো সেইঅন্ধকারকেবিদীর্ণ করে আমাদের পথ দেখায়। সুতারাং মোমেন বান্দারা,যারাআল্লাহ্‌রপ্রতি বিশ্বাসে দৃঢ় ও অকুতভয়, তাদের পথ হারানোর কোন ভয় নাই।আল্লাহ্‌তাদের রক্ষা করবেন।৬০৬৮। এই আয়াতের উত্তর ৩নং আয়াতে দেয়া হয়েছে 'উহা উজ্জ্বলনক্ষত্র।"কোন কোন তফসীরকারের মতে এটা হবে প্রভাতের শুকতারা যা রাতেরশেষ প্রহরেউজ্জ্বলরূপে প্রতিভাত হয়। আবার অন্য দল মনে করেন এটা হবেশনিগ্রহ,আবার অনেকে মনে করেন এটা লুব্ধক নক্ষত্র বা সপ্তর্ষিমন্ডলবাউল্কাপিন্ড হবে। মওলানা ইউসুফ আলী সাহেবের মতে কোন বিশেষনক্ষত্রহিসেবে বর্ণনা না করে সাধারণভাবে নেয়া যেতে পারে যা সমগ্রনক্ষত্রমন্ডলীর জন্য প্রযোজ্য হবে। কারণ বছরের প্রতিটি রাত্রেইনক্ষত্রমন্ডলী আকাশে দ্যূতি বিকিরণ করে এবং রাতের আকাশকে আলোকিতকরে।২। তোমাকে কি ভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে যে রাত্রের [ আকাশে ] আগমনকারীকি?৩। উহা উজ্জ্বল নক্ষত্র !৪। এমন কোন প্রাণ [ আত্মা ] নাই যার উপরে তত্বাবধায়ক নিযুক্ত করাহয়নাই। ৬০৬৯৬০৬৯। যদি মানুষ শুধুমাত্র বস্তু জগত সম্বন্ধে তার সমস্ত চিন্তা-ভাবনাও সত্ত্বা ব্যপৃত না রেখে মনোজগতকে বা আধ্যাত্মিক জগতকেপ্রাণিধান করারজন্য কিছুটা সময় ব্যয় করে, তবে তাঁর কোনও ভয় নাই।আল্লাহ্‌ এদের অগোচরেসকল বিপদ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবেন। হয়তোপার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে,সামাজিক অবস্থানে তাঁর স্থান অতি নগণ্য ;কিন্তু তাঁর আত্মা আধ্যাত্মিকজগতের দুর্গম পথকে অতিক্রম করেআল্লাহ্‌র নিকট সম্মানের অধিকারী হয়েযায়। আধ্যাত্মিক জগতে আল্লাহ্‌তাঁকে সমগ্র সৃষ্টির উপরে সম্মান দানকরেন। ঐশ্বরিক শক্তি তাঁদের সকলবিপদ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন এইপার্থিব জীবনে।৫। সুতারাং মানুষ প্রাণীধান করুক কি থেকে তাকে সৃষ্টি করাহয়েছে।৬। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে স্খলিত এক বিন্দু পানি থেকে৬০৭০৬০৭০। দেখুন সূরা [ ৭৬ : ২ ] আয়াতের টিকা ৫৮৩২।৭। ইহা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও পঞ্জরাস্থির মধ্য থেকে, ৬০৭১৬০৭১। পুরুষের বীর্য হচ্ছে দেহের কেন্দ্রীভূত বিশুদ্ধ সারাংশ।বীর্যদেহের কটিদেশে উৎপন্ন হয়; অর্থাৎ নিতম্বের হাড় ওপঞ্জরাস্থিরমধ্যবর্তী অঞ্চলে। মানুষের মেরুদন্ড হচ্ছে শক্তি ওব্যক্তিত্বেরপ্রতীক। মেরুদন্ডের মধ্যে দিয়ে স্নায়ু মন্ডলীর মূল কান্ডপরিচালিতহয়েছে, যার মস্তিষ্কের সাথে সংযুক্তি ঘটেছে। আর এই স্নায়ুমন্ডলীরমাধ্যমে মস্তিষ্ক তার সকল নির্দ্দেশনা দেহের সর্বত্রপরিচালনাকরে।৮। নিশ্চয়ই [আল্লাহ্‌ ] তাকে পুণরায় [জীবিত ] করে আনতে সক্ষম |৯। সেদিন [ সকল ] গোপন বিষয় পরীক্ষা করা হবে।১০। [ মানুষের ] কোন ক্ষমতা থাকবে না, এবং কোন সাহায্যকারীও থাকবেনা|১১। শপথ [ সেই ] আকাশের [ যা ] বার বার আসে,১২। পৃথিবীর শপথ, যা মুক্ত করে [ সবেগে নির্গত প্রস্রবণ ওঅঙ্কুরিতউদ্ভিদ ]১৩। দেখো, এই সেই বাণী [ কুর-আন ] যা পৃথক করে [ ভালোকে মন্দ থেকে]।৬০৭৬১৪। এটা কোন তামাশার বিষয় নয়।১৫। তারা তো ষড়যন্ত্রের দুরভিসন্ধি করছে,১৬। আমিও পরিকল্পনা করছি ৬০৭৮।৬০৭৮। দেখুন সূরা [ ৩ : ৫৪ ] আয়াত।১৭। অতএব, অবিশ্বাসীদের জন্য বিলম্ব কর, এবং অবকাশ দাও [ কিছুকালেরজন্য ]।
সূরা ফালাক্ব 1.0
w3app9
সূরা ফালাক বা ঊষা - ১১৩৫ আয়াত, ১ রুকু, মাদানী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]১। বল, আমি ঊষার আলোর প্রভুর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, ৬৩০১, ৬৩০২৬৩০১। আল্লাহ্‌র সৃষ্টি জগতে ভালো ও মন্দ এই দ্বিবিধ শক্তিরধারাপাশাপাশি বিরাজমান। ভালো ও কল্যাণের শক্তিকে আলোর সাথে তুলনীয়,অপরপক্ষে মন্দ বা অমঙ্গলের শক্তিকে অন্ধকারের সাথে তুলনীয়। গভীররাত্রিরঅন্ধকার যেরূপ ঊষার আগমনে বিদূরীত হয়, ঠিক সেরূপ অমঙ্গলেরঅন্ধকারবিদীর্ণ করে মঙ্গলের আলোক রশ্মী বিচ্ছুরিত করার ক্ষমতাএকমাত্রআল্লাহ্‌র [ ৬ : ৯৬ ]। সুতারাং আমাদের ভয়ের কিছুই নাই যদি আমরাসেইমহাশক্তিধর প্রভুর স্মরণাপন্ন হতে পারি।৬৩০২। 'Falaq' - অর্থ ঊষা, ভোর, দিনের প্রথম সূচনা, রাত্রিরঅন্ধকারকেবিদীর্ণ করে প্রথম আলোক রেখার বিচ্ছুরণ। এই উপমাটির দ্বারাবিভিন্নঅর্থকে বুঝানো হয়ঃ১) সুদীর্ঘ রাত্রি শেষে ; রাত্রির অন্ধকার বিদীর্ণ হয় প্রথম আলোররশ্মীঊষার আগমন ঘোষণা করে।২) অজ্ঞতার অন্ধকার যখন সমগ্র আত্মাকে আচ্ছাদিত করে ফেলে,আল্লাহ্‌রহেদায়েতের আলো তখন সেই সূচীভেদ্য অন্ধকারকে বিদীর্ণ করেআত্মাকেআলোকিত করে [ ২৪ : ৩৫ ]।৩) অন্ধকার অস্থায়ী। কর্মচঞ্চল জীবনকে আলোর প্রতীক হিসেবে কল্পনাকরাযায়। আর এই জীবনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে আল্লাহ্‌রহেদায়েতেরআলো।"ঊষার আলোর প্রভু" ' বাক্যটি দ্বারা আল্লাহ্‌র হেদায়েতের এইবিশেষবৈশিষ্ট্যমন্ডলীকে তুলে ধরা হয়েছে। যদি আমরা আমাদের সর্বঅস্তিত্বেরজন্য, বিপদ বিপর্যয়ে শুধুমাত্র এক আল্লাহ্‌র শরণাপন্ন হই,তবে আমাদেরসকল অজ্ঞতা, দূর হয়ে যাবে এবং আমরা কুসংস্কার ও সকলঅমঙ্গলের ভয় থেকেমুক্ত থাকতে পারবো ; ঠিক সেই ভাবে যে ভাবে পৃথিবীঊষার আলোক দ্বারারাত্রির অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়।২। যা তিনি সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে ৬৩০৩; -৬৩০৩। দেখুন উপরের টিকা ৬৩০১। আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস আমাদেরসর্বঅনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে, সকল বিপদ থেকে মুক্ত রাখবে, সকল অকল্যাণথেকেনিরাপদ রাখবে। পৃথিবীর জীবনে সাধারণভাবে আমরা যে সব বিপদ ওবিপর্যয়েরসম্মুখীন হই সেগুলিকে তিনটি শ্রেণীতে নিচের আয়াত সমূহেশ্রেণীভূক্তকরা হয়েছে :১) প্রত্যক্ষ অনিষ্ট ও বিপদ যা দ্বারা মানুষ সরাসরি কষ্ট পায়।একেইসূচিত করা হয়েছে 'রাত্রির' দ্বারা যখন তা গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্নহয়কারণ রাত্রি যখন গভীর হয় তখনই ক্ষতির সম্ভাবনা বেশী হয়। অর্থাৎঅপরাধজগৎ দ্বারা।২) 'মুসীবত' বা বিপর্যয় এটার কারণ অনেক সময়ে দৃষ্টিগোচর হয় না ;একেসূচিত করা হয়েছে "যারা গ্রন্থিতে ফুৎকার দেয়" বাক্যটি দ্বারা।এরদ্বারা যাদু-টোনাকে বুঝানো হয় -যে ক্ষতি ক্ষতিগ্রস্থদের অগোচরেঘটেথাকে। বৃহত্তর অর্থে বুঝানো হয়েছে সেই সব বিপর্যয় যা ব্যক্তিরনিজস্বক্ষমতার বাইরে যেমন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ।৩) হিংসুকের হিংসার আগুন থেকে আল্লাহ্‌র আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।৩। [রাত্রির ] অন্ধকার থেকে, যখন তা চারিদিকে বিস্তৃত হয়, ৬৩০৪,৬৩০৪। রাত্রি যখন গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়, সেই অন্ধকারের মাঝেনিহিতথাকে অপরাধ জগতের বিস্তার ও বিভিন্ন বিপদের সম্ভাবনা। অনেক লোকআছেযারা নিশিত রাত্রির গভীর অন্ধকারকে ভয় পায়, তবে সব লোকই অন্ধকারেযেঅপরাধ জগত বিস্তার লাভ করে তার ক্ষতি ও বিপদ বিপর্যয়কে ভয় পায়।আমাদেরএই আয়াতে বলা হয়েছে আমাদের ভয় পাওয়ার কারণ নাই। অন্ধকারের ক্ষতিথেকেরক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আল্লাহ্‌র আশ্রয় প্রার্থনাকরতেবলা হয়েছে। যে আশ্রয় আমাদের সর্বপ্রকার ক্ষতি থেকে রক্ষাকরবে।৪। এবং যারা যাদু কাজে অভ্যস্ত, তাদের বিপর্যয় সৃষ্টিকারীগ্রন্থিফুৎকার থেকে ৬৩০৫,৬৩০৫। "গ্রন্থিতে ফুৎকার দেয় " বাক্যটি দ্বারা যারা যাদু টোনা করেসেইসব ডাইনীদের বুঝানো হয়েছে। যাদু টোনার প্রভাব হচ্ছে মনোজগতেরউপরে।তবে এর অর্থ সীমাবদ্ধভাবে গ্রহণ না করে ব্যপক অর্থে গ্রহণ করাউচিত।জীবনের কর্মক্ষেত্রে যে বস্তুসমূহ বা ঘটনা সমূহ আমাদেরমনোজগতেরবিপর্যয় সৃষ্টি করে, যার ফলে আমরা বিপথে পরিচালিত হই এবংমনোজগতেরশান্তি নষ্ট করি, ব্যপক অর্থে তা সবই হচ্ছে "গ্রন্থিতেফুৎকারের"ন্যায় ক্ষতিকর। এগুলি হতে পারে অপরের গোপন ষড়যন্ত্র, মানসিকঅত্যাচার,বিলাস ব্যসনের সামগ্রীর সম্মোহনী শক্তি [ যার বর্ণনা আছে ৩ :১৪ আয়াতে] অথবা মিথ্যা গুজব বা চরিত্র হননকারী কুৎসা ইত্যাদি বিভিন্নঘটনাপ্রবাহ যা মানুষকে সঠিক রাস্তায় চলতে বাঁধার সৃষ্টি করে অথবামানসিকবিপর্যয়ের সৃষ্টি করে। ফলে তাঁর অন্তরের প্রশান্তি নষ্ট হয়।জীবনেরচলার পথে এরূপ বহু ঘটনা থাকে যা আমাদের চিন্তার জগতকে অধিকারকরেমানসিক বিপর্যয় ঘটায়। এরূপ ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থনাকরতেবলা হয়েছে।৫। এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন তারা হিংসা করে ৬৩০৬।৬৩০৬। হিংসা রীপুকে আগুনের সাথে তুলনা করা হয়।
সূরা নাস (العربية, উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা নাস্‌ বা মানব জাতি -১১৪৬ আয়াত, ১ রুকু, মাদানী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এটি একটি মাদানী সূরা। পূর্বোক্ত সূরাকেযদিগলার হারের সাথে তুলনা করা হয়, তবে এই সূরাটি হবে সেই হারেরলকেট।পবিত্র কোরাণ শরীফের এটিই শেষ সূরা এবং সূরাটিতে মানুষকে উপদেশদানকরা হয়েছে মানুষের প্রতি আস্থা স্থাপন না করে আল্লাহ্‌র প্রতিবিশ্বাসস্থাপন করতে। কারণ আল্লাহ্‌-ই হচ্ছেন একমাত্র রক্ষাকারী বিপদবিপর্যয়থেকে। এই সূরাতে বিশেষ ভাবে সাবধান করা হয়েছে অন্তরের মাঝেপাপের বামন্দের প্রলোভনের হাতছানি সম্বন্ধে। অর্থাৎ মানুষের রীপুসমূহযাআত্মাকে বিপথে চালিত করে।
সূরা আল-ফুরকান 1.0
w3app9
সূরা ফুরকান বা মানদণ্ড - ২৫৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : জ্ঞানী ও মূর্খ , পূণ্যাত্মা ও পাপী , আত্মিক সমৃদ্ধিওআত্মিক অধঃপতনের মধ্যে বৈষম্য প্রদর্শনের মাধ্যমে তুলনা করার জন্যআলোও অন্ধকারের উপমাকে এই সূরাতে ব্যবহার করা হয়েছে। মোমেন বান্দারপরিচয়তার কর্মের মাধ্যমে। এই কর্মের সঞ্চার মাধ্যমে এই সূরাকে শেষকরাহয়েছে।এই সূরাটি প্রধানতঃ একটি মক্কী সূরা। কিন্তু এর অবতরণ কালসম্বন্ধেকোনও নির্দ্দিষ্ট সময় বা তারিখ জানা যায় না।সারসংক্ষেপ : মানুষের প্রতি আল্লাহ্‌র সর্বোচ্চ দান বা নেয়ামতহচ্ছেতিনি মানুষকে ন্যায়, অন্যায় , পাপ ও পূন্যের মানদন্ড দানকরেছেন।আল্লাহ্‌ প্রত্যাদেশের মাধ্যমে আমাদের পরকালের অনন্ত জীবনেরতাৎপর্যসম্বন্ধে শিক্ষা দান করেন [ ২৫ : ১ - ২০ ]।যারা পৃথিবীতে এই মানদন্ড মেনে চলে না , শেষ বিচারের দিনেতাদেরঅবর্ণনীয় দুঃখ হবে। আল্লাহ্‌ সর্বদা, মানুষকে সাবধান করেদিয়েছেন। [২৫ : ২১ - ৪৪ ]।সূর্যকিরণ ও ছায়া , রাত্রি ও দিন , মৃত্যু ও জীবন এবংআল্লাহ্‌রসৃষ্টির শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের অনুধাবনের মাঝে, মানুষের জন্যনিহিত আছেআল্লাহ্‌র মহত্বকে অনুধাবনের ও শিক্ষার ব্যবস্থা। মোমেনবান্দারগুণাবলীই তাকে আল্লাহ্‌র তত্ববধানের উপযুক্ত করে। [ ২৫ : ৪৫ -৭৭]।
সূরা কাসাস 1.0
w3app9
সূরা কাসাস বা বর্ণনা - ২৮৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : প্রত্যাদেশ পুণরায় যাদের কাছে প্রেরণ করা হয় তাই হচ্ছেএইসূরার বিষয়বস্তু। কিন্তু এখানে নূতন বিষয়ের উপরে আলোকপাত করাহয়েছে।প্রত্যাদেশ গ্রহণকারীরা প্রতিদিনের সাধারণ জীবন যাত্রার মাঝেওকিভাবেমহত্তর উদ্দেশ্যের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। অপরপক্ষে , দাম্ভিক ওলোভীব্যক্তিরা কিভাবে তা প্রত্যাখান করেছিলো। সত্যকেপ্রত্যাখানকারীদেরসাথে পূণ্যাত্মাদের তুলনা করা হয়েছে।সম্ভবতঃ কয়েকটি আয়াত বাদে এই সূরাটি মক্কাতে অবতীর্ণ হয় , হিজরতেরঅল্পকিছু আগে।সারসংক্ষেপ : ফেরাউন ছিলো অন্যায়কারী , অত্যাচারী এবং উদ্ধত ,অহংকারী।কিন্তু আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা ছিলো দুর্বলকে রক্ষা করা। শৈশবেইমুসাকেআল্লাহর দায়িত্ব প্রাপ্তির জন্য প্রস্তুত করা হয়। যৌবনে তিনিআল্লাহরপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত করেন।নির্বাসিতজীবনেও তিনি লাভ করেন সাহায্য-সহযোগীতা ও ভালোবাসা। যখনতাঁকেকর্মক্ষেত্রে ডাকা হয় , আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেন। [২৮ :১-৪২]ঠিক অনুরূপ ভাবে আল্লাহ্‌র নবী মুহম্মদের [ সা ] পূত পবিত্রআধ্যাত্মিকজীবন ছিলো আল্লাহ্‌র করুণায় বিধৌত। তাঁর নিকটই প্রেরিতপ্রত্যাদেশকেপূর্ববর্তী প্রত্যাদেশ প্রাপ্তরা সনাক্ত করেন। তিনিআল্লাহ্‌রপ্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হন পুরাতন পবিত্র ভূমিতে, যা ছিলোশুধুমাত্রপার্থিব জীবনে যারা নিমজ্জিত তাদের জন্য সাবধান বাণী। [ ২৮: ৪৩ - ৬০]সুন্দর ভবিষ্যত তাদের জন্যই যারা অনুতাপকারী , বিশ্বাসী এবং সৎকাজেঅংশগ্রহণকারী। কারণ সকল সত্য ও করুণার আঁধার এক আল্লাহ্‌। [ ২৮ : ৬১-৭৫]কিন্তু মানুষ ধনগর্বে অহংকারে স্ফীত হয় , যেমন কারূন হয়েছিলো। এদেরশেষপরিণতি মন্দ। অপরপক্ষে বিনয়ী ও পূণ্যাত্মারা আল্লাহ্‌র করুণালাভেরসমর্থ হবে। [ ২৮ : ৭৬ - ৮৮ ]
সূরা লাহাব 1.0
w3app9
সূরা লাহাব বা অগ্নিশিখা - ১১১৫ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এটি একটি প্রাথমিক মক্কী সূরা। এইসূরাতেরাসুলের (সা) প্রতি যে, নিষ্ঠুর আচরণ ও নির্যাতন করা হয়েছিলোতারইপ্রেক্ষিতে সাধারণ উপদেশ দেয়া হয়েছে যে অত্যাচারীর শেষ পর্যন্তধ্বংসঅনিবার্য। যে লোক ঐশ্বরিক শক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার ক্রোধে উম্মাদহয়।সে ক্রোধের আগুনে সে নিজেই দগ্ধ হবে। যে হাত তাঁর হয়ে কাজ করেছেতাধ্বংস হবে এবং সে নিজেও ধ্বংস হবে। তার সম্পদ ও প্রভাবপ্রতিপত্তিতাকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে না।সূরা লাহাব বা অগ্নিশিখা - ১১১৫ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]১। ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হস্ত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও ৬২৯৪৬২৯৪। 'আবু লাহাব' যার অর্থ 'আগুনের শিখা ' - আবু লাহাবের আসল নামছিলোআব্দুল উয়যা। আবু লাহাব ছিলো তার ডাক নাম। তিনি ছিলেনরাসুলুল্লাহ্‌(সা) পিতৃব্য। এই নামটি তিনি লাভ করেন তার প্রচন্ডআগুনের মত মেজাজ ওউজ্জ্বল গাত্রবর্ণের জন্য। সে ছিলো শিশু ইসলামের একচরম শত্রু। যখনমহানবী কোরাইশ গোত্রের সকলকে এবং তাঁর নিজেরআত্মীয়-স্বজনদের একআল্লাহ্‌র প্রতি এবাদতের প্রতি আহ্বান করলেন,মানুষের কৃতকর্মের পরিণামও পাপ সম্বন্ধে সতর্ক করলেন, আবু লাহাব রাগেঅগ্নিশর্মা হয়ে রাসুলকে(সা) অভিসম্পাত দিলেন। ইংরেজীতে প্রবাদ আছেযে, "The Causeless cursewill not come." আবু লাহাবের অন্ধ আক্রোশথেকে উচ্চারিত অভিশম্পাত বাণীকোনও দিনও সত্যে পরিণত হয় নাই। ইসলামেরউদীয়মান সূর্য্য দিনে দিনে আরওভাস্বর ও প্রখর হতে থাকলো এবং যারাইসলামের প্রচারে প্রচন্ড শত্রুতাকরেছিলো,তাদের শক্তি ও ক্ষমতা ধীরেধীরে হ্রাস পেতে থাকে। এদের মধ্যেঅনেকেই বদর যুদ্ধে নিহত হয়। আবুলাহাব বদরের যুদ্ধের কিছুদিন পরেমহামারীতে ভীষণ দুরবস্থার মাঝে মারাযায়।এই আয়াতে 'হাতের' উল্লেখ আছে। মানুষের সব কাজে হাতের প্রভাবই বেশী,তাইএখানে ব্যক্তি সত্ত্বাকে হাত বলেই ব্যক্ত করে দেয়া হয়। আবুলাহাবেরমৃত্যু ছিলো অত্যন্ত করুণ। তিনি মহামারীতে আক্রান্ত হন ফলেসংক্রামণেরভয়ে তার আত্মীয়-স্বজনেরা তাকে নির্জন প্রান্তরে রেখে আসে।সেখানে তিনিঅসহায় ও করুণ মৃত্যু বরণ করেন। তার ধন সম্পদ ও সন্তানসন্ততি কোনওকাজেই আসে নাই। ধন -সম্পদ ও সন্তান -সন্ততি ছিলো আবুলাহাবের অহংকার ওগর্বের বিষয়বস্তু। ৩নং আয়াতে ভবিষ্যত বাণী করা হয়েছেযে, পৃথিবীরজীবনের শেষ পরিণতি সম্বন্ধে।২। তার ধন-সম্পদ, তার উপার্জন তার কোন কাজেই আসে নাই।৩। শীঘ্রই সে লেলিহান আগুনে জ্বলতে থাকবে।৪। তার স্ত্রী আগুনের জ্বালানী কাঠ বহন করবে ৬২৯৫,৫। তার গলায় খেজুর পাতার আঁশের পাকানো রজ্জু থাকবে।৬২৯৫। আবু লাহাবের ন্যায় তার স্ত্রীও রাসুলুল্লাহ্‌র প্রতিবিদ্বেষভাবাপন্ন ছিলো। সে এ ব্যাপারে স্বামীকে সাহায্য করতো। সেখেজুরের পাতাদ্বারা রজ্জু পাকিয়ে তা দিয়ে খেজুর কাঁটার বান্ডিল তৈরীকরে রাতেরআঁধারে তা বয়ে এনে রাসুলের যাত্রা পথে বিছিয়ে রাখতো যেনো তারাসুলকেআহত করে। জ্বালানী কাঠ বহন করা বাক্যটি প্রতীকধর্মী। এর দ্বারাআবুলাহাবের স্ত্রীর চরিত্রের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরা হয়েছে। সে ছিলোদুষ্টুপ্রকৃতির ; মানুষের মাঝে বিবাদ বিসংবাদের সৃষ্টি করা ছিলোতারস্বাভাবিক ধর্ম। রাসুলুল্লাহ্‌ (স) ও তাঁর অনুসারীদের কষ্ট দেয়ারজন্যআবু লাহাব পত্নী নিন্দাকার্যের সাথেও জড়িত ছিলো যাতে বিবাদ,বিসংবাদেরসৃষ্টি হয়। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকেই 'ইন্ধন' বাজ্বালানী কাঠনামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটা ছিলো তার অন্যতম পাপ। এরদ্বারা অন্য আরএক রকমের আগুন ও অন্য আর এক রকমের দড়ি দ্বারা সেবেষ্টিত হয়েছে।আগুনটি হবে তার পরলোকের শাস্তি এবং দড়ি বা পাকানোরজ্জুটি হচ্ছে পাপেরদাসত্ব করার প্রবণতা। কারণ প্রতিটি পাপ কাজইআত্মাকে হীনতা ও নীচতারডোরে বেধে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত সে তার আত্মারস্বাধীনতা হারায় ওপাপের ক্রীতদাসে পরিণত হয়। এ ভাবেই পাপীরা তাদের শেষপরিণতিকেনির্ধারিত করে নেয়। এটাই হচ্ছে এই সূরার নৈতিক উপদেশ।
সূরা নাহল 1.0
w3app9
সুরা নাহল বা মৌমাছি-১৬১২৮ আয়াত, ১৬ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে]ভূমিকা :ক্রমপঞ্জি অনুসারে এই সূরাটি মক্কাতে অবতীর্ণ সূরাগুলির মধ্যে শেষদিকেঅবতীর্ণ হয় তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম হচেছ আয়াত ১১০ এবং তারপরবর্তী আয়াতসমূহ। এ ব্যাপারে সময়ের ক্রমপঞ্জি গুরূত্বপূর্ণ নয়। এইসূরারবিষয়বস্তুর সার সংক্ষেপ হচেছ মানুষের সাথে আল্লাহ্‌র আচরণ, যানূতনআঙ্গিকে এই সূরাতে প্রকাশ করা হয়েছে। আল্লাহ্‌ মানুষের মাঝেআত্মপ্রকাশকরেন তার সৃষ্টির বিভিন্ন ধাপে এবং মানুষের জীবনের মাধ্যমেতার মাহত্বপ্রকাশ পায়। নূতন বিষয় হচেছ অনুধাবন করা যে, প্রকৃতিকেঅনুধাবনের মাঝেআল্লাহ্‌র জ্ঞান, প্রজ্ঞা ইত্যাদির স্বাক্ষরমেলে।সার সংক্ষেপ :সৃষ্টির সব কিছু আল্লাহ্‌র মহত্ব ঘোষণা করে। মানুষকে আল্লাহ্‌প্রকৃতিরউপরে প্রভুত্ব করার ক্ষমতা দিয়েছেন। যেনো সে প্রাকৃতিকজ্ঞানের মাধ্যমেআল্লাহ্‌র একত্বকে অনুধাবন করতে পারে।(১৬:১-২৫)আল্লাহ্‌র প্রেরিত রাসূলদের শিক্ষা থেকে মানুষ বিচ্যুত হবে না,কারণআল্লাহ্‌ তাদের প্রেরণ করে থাকেন মানুষকে সত্য এবং একত্ববাদশিক্ষাদেবার জন্য। সকলকে সৃষ্টি করা হয়েছে এক আল্লাহ্‌র এবাদত করারজন্য।(১৬:২৬-৫০)আল্লাহ্‌র রহমত এবং মানুষের অকৃতজ্ঞতাকে তুলনা করা হয়েছে। তারকরুণারনিদর্শন হচেছ জলভারে ভরা মেঘ যা বর্ষণ করে, গাভী যা মানুষকেদুগ্ধ দানকরে, মৌমাছি যা মানুষকে মধুর যোগান দেয়, পারিবারিক জীবনেস্নেহেরবন্ধন এবং সামাজিক জীবনের সুখ ও শান্তি সর্বোপরি সভ্যতারউৎকর্ষতা ওতার ফলে বিলাসী ও আরামদায়ক জীবনের প্রতিশ্রুতি।(১৬:৫১-৮৩)যারা সত্যকে অস্বীকার করে, সত্যের প্রচারক বা আল্লাহ্‌র রাসুলরাশেষবিচারের দিনে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবেন। আল্লাহ্‌ আমাদেরবিশ্বাস ওকর্মের বিচার করবেন। (১৬:৮৪-১০০)কোর-আণ অভ্রান্ত সত্য যা সত্যপথে চলার পথ নির্দেশ দান করে। বিশ্বাসকরএবং জীবনকে সৎ ও সুন্দর পথে পরিচালিত কর। ইব্রাহীমের উদাহরণঅনুসরণকর। বিশ্বাস ও ন্যায়ানুনাগে অটল হও এবং সৎ কাজ কর।(১৬:১০১-১২৮)
সুরা মারইয়াম 1.0
w3app9
সূরা মার্ইয়াম - ১৯৯৮ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : সূরা ১৭ তে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে প্রতিটি মানুষেরআধ্যাত্মিকউন্নতির মূল নীতিমালা হচ্ছে, নৈতিক চরিত্র, এবং সূরা ১৮ তেবলা হয়েছে,অনুধাবন করতে জীবনের রহস্য ও এর স্বল্পস্থায়িতা এবংজুলকারনাইনেরকাহিনীর মাধ্যমে উদাহরণ স্থাপন করা হয়েছে কিভাবেআল্লাহ্‌ প্রদত্তক্ষমতাকে সদ্ব্যবহার করতে হয়। এই সূরা শুরু হয়েছেপরিবেশের প্রেক্ষিতেবিভিন্ন রাসুলদের কাহিনীর মাধ্যমে ইয়াহিয়া ও তাঁরপিতা জাকারিয়া, যীশুও তার মা মরিয়ম, ইব্রাহীম ও তাঁর অবিশ্বাসী পিতা,মুসা ও তাঁর ভাইহারূন, ইসমাঈল ও তাঁর পরিবার, এবং ইদরীস ও তাঁর উচ্চঅবস্থান। এসবমহামানবদের জীবনের ছবি চিত্রিত করে, মানুষকেবিশ্বাসহীনতার জন্য নিন্দাকরা হয়েছে। নিন্দা করা হয়েছে কুসংস্কারেরদ্বারা আত্মার অবনতি ঘটানোরজন্য এবং সাবধান করা হয়েছে পরকালেরজন্য।আবিসিনিয়াতে প্রথম মুসলিম অভিযাত্রীদল যখন আশ্রয় গ্রহণ করেন এইসূরাতারও পূর্বে মক্কাতে অবতীর্ণ হয়। মোটামুটিভাবে এই সূরার অবতীর্ণহওয়ারসময়কাল হচ্ছে হিজরতের প্রায় সাত বৎসর পূর্বে।সারসংক্ষেপ : পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে আল্লাহ্‌র বাণী প্রচারেরজন্যজাকারিয়া উদ্বিগ্ন হন এবং সে জন্য তিনি উত্তরাধিকার কামনাকরেন।আল্লাহ্‌ তাঁকে ইয়াহিয়াকে দান করেন [ ১৯: ১- ১৫ ]হযরত ঈসার মা মেরীর সম্বন্ধে তাঁর লোকেরা কুৎসা রটনা করে। কিন্তুযীশুতাঁকে সান্তনা দান করেন ও ভালো ব্যবহার করেন। [ ১৯: ১৬-৪০ ]হযরত ইব্রাহীমকে লোকেরা তাঁর বিশ্বাসের কারণে নির্যাতন করে। এসবলোকেরমধ্যে তাঁর পিতাও ছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের ত্যাগ করেন ওআল্লাহ্‌রঅনুগ্রহ লাভ করেন। হযরত মুসাকে তাঁর ভাই হারুন সাহায্য করেন।হযরতইসমাঈল তাঁর পরিবারকে পূণ্যাত্মারূপে শিক্ষা দান করেন। হযরতইদরীসছিলেন উচ্চমানের পূণ্যাত্মা ও সত্যবাদী। তাঁর মানুষদের তিনিপথনির্দ্দেশ দান করেছেন , কিন্তু মানুষ সেই সুন্দর জীবনের প্রত্যাশীনয়[ ১৯: ৪১ - ৬৫ ]মানুষের পরকাল সম্বন্ধে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আল্লাহ্‌রধারণাকেমিথ্যা দ্বারা নোংরা করবে না। [ ১৯ : ৬৬ - ৯৮ ]
সূরা হুদ 1.0
w3app9
সূরা হুদ - ১১১২৩ আয়াত, ১০ রুকু, মক্কী,(দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে)ভূমিকা : ১০ থেকে ১৫ নম্বর সূরা সমূহ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।এদেরসম্পর্কে ১০ নম্বর সূরার ভূমিকাতে জ্ঞাতব্য বিষয় সমূহ বর্ণনাকরাহয়েছে। সেই দিক থেকে ১১ নম্বর সূরাটি ১০ নম্বর সূরার অতিরিক্তঅংশবিশেষ হিসেবে গণ্য করা যায়। ১০ নম্বর সূরাতে গুরুত্ব আরোপ করাহয়েছেমানুষের প্রতি, আল্লাহর দয়া ও করুণার উপরে ; ঠিক সেইভাবে ১১নম্বরসূরাতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে আল্লাহর ন্যায় বিচারের উপরে। যখনমানুষআল্লাহর প্রসারিত দয়া ও করুণার হাতকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়তখনআল্লাহর করুণা থেকে সে হয় বঞ্চিত। ফলে অবধারিতভাবে আল্লাহর শাস্তিতারউপরে নেমে আসে।সার সংক্ষেপ : আল্লাহর প্রত্যাদেশ, আল্লাহর দয়া ও করুণারই স্বাক্ষর।এইআয়াত গুলিতে বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে আল্লাহ্‌ মানুষেরঅকৃতজ্ঞতা,মিথ্যার প্রতি ভালবাসা, দম্ভ, অহংকার, কুচক্রপনা প্রভৃতিকরুণা ওধৈর্য্যের সাথে মোকাবেলা করেন। [১১; ১-২৪]বিধর্মীরা হযরত নূহ এর প্রচারিত আল্লাহ্‌রপ্রত্যাদেশকেঠাট্টা-বিদ্রুপের বস্তুতে পরিণত করে। হযরত নূহ্‌আল্লাহ্‌র নির্দেশেনৌকা তৈরী করেন এবং আল্লাহ্‌র করুণায় হযরত নূহ্‌মহা প্লাবন থেকেরক্ষা পায়। অপরপক্ষে যারা তাঁর বিরুদ্ধাচারণ করেছিল,তাঁরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। [১১ ; ২৫-৪৯]হুদ নবী আদ সম্প্রদায়কে মিথ্যা উপাস্যের উপাসনা করতে নিষেধকরেছেন,সালেহ্‌ নবী তার সম্প্রদায়কে আল্লাহ্‌র প্রতীক উটের অসম্মানকরতেনিষেধ করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা প্রত্যাখাত হয়েছেন,ফলেপ্রত্যাখানকারীরা পৃথিবী থেকে নিঃশেষ হয়ে গেছে [১১;৫০-৬৮]হযরত লূত তাঁর সম্প্রদায়কে তাঁদের পাপের বিরুদ্ধে সাবধান করেদেয়,কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করে না। ফলে তারা তাদের পাপের শাস্তিভোগকরে। প্রতারণা ও জাল জুয়াচুরীর বিরুদ্ধে সুয়েব নবীমিদিয়ানবাসীদেরসাবধান করেন, কিন্তু তারা তাকে ভৎর্সনা করে, পরিণামেতারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। [১১; ৬৯-৯৫]ফেরাউনের মত উদ্ধত অহংকারী নৃপতি যে তার সম্প্রদায়কে বিপথেচালিতকরেছিলো, পরিণাম স্বরূপ নিজের ধ্বংস ডেকে আনে। আল্লাহ্‌ ন্যায়বিচারক।পাপের শাস্তি হবেই। সুতারাং সব ধরণের মন্দ ও পাপ কাজ থেকে দূরেথাকতেহবে এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহ্‌র সেবা করতে হবে। [১১;৯৬-১২৩]
সুরা আল-জিলজাল 1.0
w3app9
সূরা যিল্‌যাল বা প্রকম্পন - ৯৯৮ আয়াত, ১ রুকু, মাদানী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই সূরাটি পূর্বের সূরার ন্যায়। এটিএকটিপ্রাথমিক মাদানী সূরা। আবার অনেকে মনে করেন এটা বিলম্বে প্রাপ্তমক্কীসূরা।রোজ কেয়ামতের প্রাক্কালে যখন ন্যায় ও সত্যের পটভূমিতে নূতনপৃথিবীসৃষ্টি করা হবে সে সময়ে এই পুরাতন পৃথিবী প্রচন্ডভাবে প্রকম্পিতহবে।বর্তমান পৃথিবীর সব কিছু সমূলে উৎপাটিত হবে এবং পৃথিবী ধ্বংসহয়েযাবে। সেই প্রবল কম্পনের সামান্য নমুনা আমরা ভূমিকম্পের সময়েদেখতেপাই। কেয়ামত কালের কম্পনের ফলে পৃথিবীর অভ্যন্তরের সকললুক্কায়িতবস্তু বের হয়ে পড়বে।সূরা যিল্‌যাল বা প্রকম্পন - ৯৯৮ আয়াত, ১ রুকু, মাদানী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]১। যখন পৃথিবী প্রকম্পিত হবে [ ভয়ানক ভাবে ] ৬২৩৫।৬২৩৫। সাধারণ মানুষের নিকট প্রচন্ড ভূমিকম্প এক অত্যন্ত ভয়াবহ ঘটনা।এরফলে সুউচ্চ প্রাসাদ মূহুর্তের মধ্যে ধূলিস্যাৎ হয়ে পড়ে।পৃথিবীরবর্হিভাগ চৌচির হয়ে ফেটে পড়ে ও অভ্যন্তর ভাগের বিভিন্ন পদার্থবের হয়েআসে। ভুমিকম্পের আকস্মিকতা, উৎপত্তি, মানুষের অজানা এবং এরধ্বংস করারক্ষমতার ভয়াবহতা মানুষকে ভয়ে বিহ্বল করে দেয়। এ হলো পৃথিবীরসামান্যভূমিকম্পের বিবরণ। কিন্তু কেয়ামতে যে ভুকম্পন হবে তার তীব্রতাওধ্বংসযজ্ঞ কল্পনা করাও মানুষের পক্ষে অসাধ্য। তবে পৃথিবীরসামান্যভূমিকম্পন থেকে মানুষ কেয়ামতের দিনের ভূকম্পনের সামান্য কিছুধারণাকরতে পারে।২। এবং পৃথিবী তার বোঝাসমূহ বের করে দেবে, ৬২৩৬৬২৩৬। যদি ভূকম্পনের সাথে আগ্নেগিরির আগ্নেয়পাত ঘটে, তবে বড়বড়শিলাখন্ড ও গলিত উত্তপ্ত লাভার স্রোত ভূগর্ভ থেকে উৎক্ষিপ্ত হতেথাকে।এগুলির উৎক্ষেপন থেকে মনে হয় যে, এগুলি বের করে দেয়ার জন্যপৃথিবীরঅভ্যন্তর ভাগ ব্যগ্র, এরা হচ্ছে পৃথিবীর জন্য বোঝা স্বরূপ।যাবতীয়খনিজ পদার্থ, অথবা ধনরত্ন যা মানুষ গোপনে পুঁতে রেখেছিলো সবকিছুমাটির অতল থেকে বের হয়ে আসে। কিন্তু কেয়ামতে যে প্রচন্ড ভূকম্পনঘটবেতাতে পৃথিবীতে অদ্যাবধি যত মৃতদেহকে কবর দেয়া হয়েছে, সব বের হয়েআসবেএবং তাদেরকে কবরের অন্ধকার থেকে দিনের আলোতে প্রকাশ করা হবে।প্রকৃতসত্যের ভিত্তিতে তাদের বিচার অনুষ্ঠিত হবে।৩। এবং মানুষ [দুর্দ্দশায় ] চীৎকার করে বলবে, " ইহার [ পৃথিবীর ]কিহলো ? " ৬২৩৭৬২৩৭। সেদিনের ভয়াবহতা দর্শনে মানুষ হয়ে পড়বে হতভম্ব। উদ্বেগ,উৎকণ্ঠায়তার কণ্ঠরোধ হওয়ার অবস্থা হবে।৪। সেদিন সে তার বৃত্তান্ত ঘোষণা করবে।৫। কারণ তোমার প্রভু তাকে সেভাবেই অনুপ্রাণীত করবেন ৬২৩৮।৬২৩৮। এই আয়াতে বলা হয়েছে পৃথিবীকে সেদিন ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিতকরাহবে। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে সত্যি তবে পৃথিবীতে সৃষ্টির আদি থেকেযতকাজ করা হয়েছে সব কিছু পৃথিবী প্রকাশ করে দেবে দিবালোকের ন্যায়।কারণআল্লাহ্‌ পৃথিবীকে সেই আদেশ দান করবেন যার ফলে পৃথিবীর মাঝেনিজেকেপ্রকাশ করার 'প্রেরণা' জন্মলাভ করবে। তাকে হুকুম করা হবে সকলপ্রকৃতঘটনা প্রকাশ করার জন্য। দেখুন [ ১৬ : ৬৮ ] আয়াত ও টিকা নং২০৯৭।আল্লাহ্‌, ' প্রেরণা ' দান করলে ভাষাহীন জীবও আত্মপ্রকাশেরক্ষমতারাখে।৬। সেদিন [ ভালো ও মন্দ ] মানুষ নিজেদের আমলনামা দেখার জন্য বাছাইকরা[ বিভিন্ন ] দলে অগ্রসর হবে, ৬২৩৯৬২৩৯। এই পৃথিবীতে ভালো ও মন্দ পরস্পর মিশে থাকে। কিন্তু বিচারদিবসেরপ্রাক্কালে ভালোকে মন্দ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা হবে। ভালোরাহবে একশ্রেণী এবং মন্দরা হবে অন্য শ্রেণী। প্রত্যেক দল তাদের বিচারেরজন্যঅপেক্ষা করবে। প্রত্যেক দলকে তাদের কৃতকর্মকে দেখানো হবে,পৃথিবীতেতারা যা করেছে, যা চিন্তা করেছে, যা বলেছে অর্থাৎ জীবনেরখুঁটিনাটিপ্রতিটি ঘটনা সবই সিনেমার মত তাদের দৃষ্টিতে ভাস্বর হবে।তাদের কোনগোপন কাজ বা চিন্তা সেদিন গোপন থাকবে না। প্রতিটি কাজচিন্তা, কথা,আচরণ তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য হোক সব কিছুর হিসাবনেয়া হবে। সেইসাথে এ কথাও বলা হয়েছে তাদের কাজের হিসাব তাদের দেখানোহবে।৭। কেহ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখবে,৮। এবং কেহ অণু পরিমাণ পাপ করলে সে তাও দেখবে। ৬২৪০৬২৪০। 'Zarrat' পরমাণু সম ওজন। অর্থাৎ পৃথিবীতে আমরা যাকেসর্বাপেক্ষাক্ষুদ্র ওজন মনে করি। বলা হয়েছে যে ভালো বা মন্দ যাই-ইমানুষ এইপৃথিবীতে করবে তা সেদিন সে দেখতে পারবে ও স্মরণ করতে পারবে।ভালোকাজের গুরুত্ব বুঝানোর জন্য বলা হয়েছে যে, অণু সমান সৎ কাজকরলেওআল্লাহ্‌র নিকট তা হারিয়ে যাবে না। এ ভাবেই আল্লাহ্‌সৎকর্মশীলদেরপুরষ্কৃত করবেন।
সূরা আল-জিন 1.0
w3app9
সূরা জিন্‌ -৭২২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই সূরাটি মক্কী সূরাগুলির শেষার্ধেঅবতীর্ণহয়। হিজরতের দুবছর পূর্বে এই সূরাটি অবতীর্ণ হয় সেই সময়েরাসুলের (সা)উপরে মক্কাবাসীদের অত্যাচার নির্যাতন চরম আকার ধারণকরেছিলো। তাদেরঘৃণিত আচরণ ও প্রত্যাখানের ফলে আল্লাহ্‌র রাসুল (সা)দ্বীন প্রচারেরউদ্দেশ্যে তায়েফ গমন করেন। কিন্তু তায়েফবাসীরা তাঁকেগ্রহণ করারপরিবর্তে তাঁর উপরে নির্যাতনের খড়্‌গ চালনা করে। রাসুলের(সা)সর্বোচ্চ মনঃকষ্টের কারণ ছিলো যা তা হচ্ছে তাঁর সাথে যে সবমোমেনবান্দারা গমন করেছিলেন তাদের প্রতি তায়েফবাসীদের নিষ্ঠুরনির্যাতন।তিনি ব্যর্থ মনোরথ হয়ে মক্কাতে ফিরে আসেন। মক্কাতে ফেরার পথেতাঁরসম্মুখে অলৌকিক দৃশ্যের দ্বার উম্মুক্ত হয়। তিনি দেখেন যেঅদৃশ্যআত্মারা তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ; যদিও তাঁর নিজসম্প্রদায়েরলোকেরা তাঁকে প্রত্যাখান করে এবং নির্যাতন করে থাকে। এইঘটনার দুমাসেরমধ্যেই মদিনা থেকে আগত দুজন আগন্তুক গোপনে হযরতের (সা)কাছে ইসলামগ্রহণ করেন। আর এটাই ছিলো হিযরতের ভিত্তিপ্রস্তর যাপরবর্তীতে আরব তথাসমগ্র বিশ্বের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেয়।
সূরা নমল 1.0
w3app9
সূরা নাম্‌ল বা পিপড়া - ২৭৯৩ আয়াত, ৭ রুকু , মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : এই সূরাটি পূর্ববর্তী সূরা ও পরবর্তী দুইটি সূরারসমপ্রকৃতির। এই সূরাটির সময়ের ক্রমপঞ্জি মধ্য মক্কান।হযরত মুসার কাহিনীর পবিত্র আগুন, সাদা উজ্জ্বল হাত , লাঠি,সুলাইমানেরকাহিনীর পাখীর ভাষা , মানুষ ও জ্বীনের ভীড়ে ক্ষুদ্রপিপীলিকারআত্মরক্ষার প্রয়াস ,হুপী পাখী ও সেবার রাণী ; সালেহ্‌রকাহিনীর নয়জনদুষ্ট লোকের পরাজয়; লূতের কাহিনীর প্রকাশ্য পাপ; আমাদেরসত্য ও মিথ্যাউপাস্যের পার্থক্য শিক্ষা দেয়া ও আল্লাহ্‌র করুণা ওপ্রত্যাদেশেরপ্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সূরা।সার সংক্ষেপ : হযরত মুসার দৃষ্ট পবিত্র আগুন আল্লাহ্‌রপ্রত্যাদেশেরমতই এক অলৌকিক ঘটনা। পবিত্র আলো ছিলো আল্লাহ্‌র মহিমারপ্রকাশেরক্ষুদ্র ঝলক মাত্র। [ ২৭ : ১ - ১৪ ]।সুলাইমান পাখীর ভাষা বুঝতে পারতেন। তাঁর অধীনে বিশাল জ্বিনের ওমানুষেরবাহিনী ছিলো। ক্ষুদ্র ও জ্ঞানী পিপীলিকা সুলাইমানেরবাহিনীরঅজ্ঞানতাপ্রসূত ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার উপায় অবলম্বন করে। হুপীপাখীতার তালিকাভূক্তির হাজিরা থেকে অনুপস্থিত থাকা সত্বেও সুলাইমানেরজন্যকাজ করেছে। সেবার রাণীর বিরাট রাজত্ব ছিলো; কিন্তু তবুও সেজ্ঞানীসুলাইমানের নিকট আত্মসমর্পন করে। [ ২৭ : ১৫ - ৪৪ ]সালেহ্‌ নবীর কাহিনীতে নির্বোধেরাই মঙ্গল চিহ্নকে মন্দভাগ্যরূপেচিহ্নিত করে। লূতের কাহিনীতে বিকৃত পাপকে প্রকাশ্য করে।কিন্তুপাপীদের সকল পরিকল্পনা ও ক্রোধ আল্লাহ্‌ ধ্বংস করে দেন। [ ২৭ :৪৫ -৫৮ ]আল্লাহ্‌র মহিমা ও কল্যাণ সৃষ্টির সকল কিছুর উর্দ্ধে। শেষপর্যন্তসত্যের ও প্রকৃত মূল্যবোধের নিকট অবিশ্বাস নতি স্বীকার করবে।সুতারাংআল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ অনুসরণ কর, আল্লাহ্‌র সেবা কর এবং তাঁরপ্রতিসর্ব বিশ্বাস স্থাপন কর। [ ২৭ : ৫৯ - ৯৩ ]
সূরা লোকমান 1.0
w3app9
সূরা লূকমান বা জ্ঞানী - ৩১৩৪ আয়াত, ৪ রুকু , মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : এই সূরাতে সকল কিছুর শেষ পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছেভিন্নদৃষ্টিভঙ্গি থেকে। জ্ঞান বা দিব্যজ্ঞান কি ? কোথায় তাকেঅনুসন্ধান করাযায় ? এ জ্ঞান কি সময় ও প্রকৃতির রহস্য, পার্থিব জগতেরউর্দ্ধে যেজগতের অবস্থান তার রহস্য সমাধান করে এবং আল্লাহ্‌রসান্নিধ্য পৌঁছিয়েদেয় ? উত্তর হবে হ্যাঁ। জ্ঞানী লুকমানের উপদেশহচ্ছে, যদি মানব,আল্লাহ্‌র এবাদতের মাধ্যমে নিজস্ব জ্ঞানের পরিমন্ডলকেবিস্তৃত করতেচায়, জীবনের প্রতিটি কাজকে দয়া ও সহমর্মিতায় মহিমান্বিতকরে, মিথ্যাকেপরিহার করে, যা কিছু আল্লাহ্‌র আইনকে লঙ্ঘন করে তা থেকেবিরত থাকেএই-ই হচ্ছে জীবনকে গুণান্বিত করার সঠিক ও সহজ রাস্তা। বিশ্বপ্রকৃতিরমাঝেও এ সত্য নিহিত আছে।এই সূরার অবতীর্ণ হওয়ার সময়ের কোনও বিশেষ বৈশিষ্ট্য নাই। এইসূরাপ্রধানতঃ অবতীর্ণ হয় মক্কাতে অবস্থানের শেষার্ধে।সার সংক্ষেপ : যারা পূণ্যের অনুসন্ধান করে, তারা আল্লাহ্‌রনির্দ্দেশিতপথের সন্ধান লাভ করে। যারা তা না করে আত্ম অহংকারে মত্তথাকে তদেরঅনিবার্য পরিণতি ধ্বংস। সৃষ্টির সকল কিছুই এই সত্যিরসাক্ষ্য দেয়।জ্ঞানী লুকমান ব্যাখ্যা করেন যে,জ্ঞানের মাধ্যমেইআল্লাহ্‌র প্রকৃতসেবা করা যায়। [ ৩১ : ১ - ১৯ ]।দিব্য জ্ঞান মানুষকে ধৈর্যশীল ও দৃঢ় করে এবং সৃষ্টির মাঝেআল্লাহ্‌রআইনকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। আল্লাহ্‌র আইন প্রতিটিবস্তুর শেষপরিণতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যার রহস্য জানেন একমাত্রআল্লাহ্‌ [৩১ : ২০ - ৩৪ ]।
সুরা আল-বুরুজ 1.0
w3app9
সূরা বুরূজ বা রাশিচক্র - ৮৫২২ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : প্রাথমিক মক্কী সূরাগুলির মধ্যে এটি অন্যতম।এইসূরাটি ৯১ নং সূরাটির সমসাময়িক।পূণ্যাত্মাদের উপরে নির্যাতনের বিষয় এই সূরাতে আলোচনা করাহয়েছে।আল্লাহ্‌ শত্রুদের মোকাবিলা করেছেন এখনও তিনি তা করবেন।
সুরা আল-আলা 1.0
w3app9
সূরা আ'লা বা সুউচ্চ -৮৭১৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : প্রাথমিক মক্কী সূরাগুলির মধ্যে এটিঅন্যতম।সম্ভবতঃ অবতরণের ক্রমপঞ্জি অনুযায়ী এটি অষ্টম। ৮১ নং সূরারপরেই এটাঅবতীর্ণ হয়।এই সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে, আল্লাহ্‌ মানুষকে ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিকজগতেঅগ্রসর হওয়ার ক্ষমতা দান করেছেন। আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশক্রমান্বয়ে তাকেপবিত্র থেকে পবিত্রতর ও নৈতিক দিকে উৎকৃষ্ট থেকেউৎকৃষ্টতর পরিণতিরদিকে অগ্রসর করাবে।
সূরা ফাতহ (العربية ,উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা ফাত্‌-হ অথবা বিজয় - ৪৮২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : ১) ৪৭ নং সূরার ভূমিকাতে মদিনাতে অবতীর্ণ সূরাগুলির যেশ্রেণীবিভাগ করা হয়েছে সেই শ্রেণীর এটি দ্বিতীয় সূরা। এই সূরাটিরসময়কালহুদায়বিয়ার সন্ধির সময়কাল আর তা হচ্ছে ৬ই হিজরী জুল-কাদ মাস বা৬২৮খৃষ্টাব্দ ও ফেব্রুয়ারী মাস।২) রাসুলের (সা ) জীবদ্দশায় হুদায়বিয়ার সমতলভূমির অবস্থান ছিলোমক্কাথেকে মদীনা গামী রাস্তার সামান্য পশ্চিমে। মক্কা থেকে দূরত্বছিলোউত্তরে একদিনের রাস্তা। রাসুলের ( সা ) হিজরতের পরে ছয় বৎসরঅতিবাহিতহয়ে পড়েছে। তার প্রিয় জন্মভূমি মোশরেক কোরাইশদেরস্বেচ্ছাচারীকর্তৃত্বের অধীনে। কিন্তু এই ছয় বৎসরে মদীনায় ইসলামবিস্তৃতি লাভ করে।ইতিমধ্যে মুসলমানদের কিব্‌লা নির্ধারিত হয়েছে পবিত্রকাবা অভিমুখে।সুতারাং মক্কা নগরী তথা কাবা মুসলমানদের অতি প্রাণপ্রিয়পবিত্রস্থানরূপে পরিগণিত হতো। সেই প্রাচীনকাল থেকে এই প্রথা চলেআসছিলো যে,আরবের প্রতিটি অধিবাসী নিরস্ত্র অবস্থায় পবিত্র কাবাঘরপ্রদক্ষিণ করারঅধিকার রাখে। এই পবিত্র স্থানে পবিত্র মাসে [ দেখুন ২ :১৯৪ সূরারটিকা ২০৯ ] সকল প্রকার যুদ্ধ বিগ্রহ নিষিদ্ধ। এই পবিত্রমাসগুলোরমধ্যে জুল-কাদ মাস অর্ন্তভূক্ত। সে কারণেই ৬ষ্ঠ হিজরীরজুল-কাদ মাসেরাসুলুল্লাহ্‌ (সা ) সংক্ষিপ্ত হজ্জ বা উমরা করারসিদ্ধান্ত গ্রহণকরেন। [ দেখুন ২ : ১৯৬ ] আয়াতের টিকা ২১২ ]। সে ভাবেইরাসুল (সা )নিরস্ত্র অবস্থায় তাঁর অনুসারীদের সমভিব্যবহারে মদিনা থেকেমক্কার পথেযাত্রা করেন। চৌদ্দশ থেকে পনেরশ মুসলমানের বিশাল দল তাঁরসঙ্গীহন।৩) মুসলামনদের এই তীর্থযাত্রা, মক্কার স্বেচ্ছাচারী মোশরেককোরাইশদেরমনঃপুত হলো না। তাদের পাপিষ্ঠ মন শঙ্কায় পরিপূর্ণ হলো। তারানিরস্ত্রমুসলমান তীর্থযাত্রীদের বাধাদানে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করলো।ফলেআল্লাহ্‌র রাসুল মক্কাতে প্রবেশ না করে মক্কা থেকে সামান্যপশ্চিমেযেয়ে হুদায়বিয়া নামক স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন, যেখান থেকেতিনিকোরাইশদের সাথে সন্ধির আলোচনা করেন। রাসুল (সা ) যে কোনওমূল্যেপবিত্র স্থানে কোরাইশদের সংহিসতা প্রতিরোধ করতে বদ্ধ পরিকরছিলেন।অপরপক্ষে বিগত ছয় বৎসরের অভিজ্ঞতা কোরাইশদের এই শিক্ষা দেয়যে,ইসলামকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়, বরং চর্তুদিক থেকে তাদের শক্তি সীমিতহয়েআসছে এবং ইসলামের ব্যপক প্রসার লাভ ঘটছে। ইসলামের আধ্যাত্মিকক্ষমতারপ্রকাশ তারা বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক ও প্রতিরোধ ক্ষমতারমাধ্যমেউপলব্ধি করেছে। ফলে তারা রাসুলের (সা ) সাথে হুদায়বিয়ার নামকস্থানেসন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ইসলামকে এবং মুসলমানদের অস্তিত্বকেস্বীকারকরে নেয়। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নেতার অধীনে সমগ্র মুসলিমরাহুদায়বিয়ানামক স্থানে বৃক্ষের নীচে [ ৪৮ : ১৮ ] চুক্তির স্বপক্ষে যেভাবেএকত্বতা প্রদর্শন করে থাকেন তা ভবিষ্যতের বিশাল শক্তিশালীজাতীয়বাদেরইইঙ্গিত বহন করে।৪) এ ভাবেই সন্ধির চুক্তিপত্র সাক্ষরিত হয় যা হুদায়বিয়ার সন্ধিনামেবিখ্যাত। চুক্তির শর্তসমূহ ছিলো নিম্নরূপ :১) দুদলের মাঝে দশ বছরের জন্য শান্তির চুক্তি বলবৎ থাকবে।২) যে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠি নিজ স্বাধীনতা অনুযায়ী যে দলে ইচ্ছামিলিতহওয়ার ক্ষমতা রাখে।৩) মক্কার কোরাইশদের অধীনের কোনও কোরাইশ যদি কোরাইশদের অনুমতিব্যতীতমদিনায় গমন করে ও মদিনায় রাসুলের (সা ) আনুগত্য স্বীকার করে,তবেতাঁকে মক্কাতে ফেরত দিতে মুসলমানেরা বাধ্য থাকবে। অপরপক্ষে,বিপরীতক্ষেত্রে মুসলিমদের জন্য এই আইন প্রযোজ্য থাকবে না।৪) রাসুল (সা ) এবং তাঁর অনুসারীরা সে বছর মক্কাতে প্রবেশের অনুমতিলাভকরবেন না। পরবর্তী বছর থেকে নিরস্ত্র অবস্থায় তাঁরা মক্কানগরীতেপ্রবেশের অধিকার লাভ করবেন।৫। উপরিউক্ত চুক্তির তিন নম্বর ধারাটি সমতার ভিত্তিতে সম্পাদিতনাহওয়াতে মুসলিম শিবিরে অসন্তোষের জন্ম দেয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষেএটাকোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো না। কোনও মুসলিমকে মক্কাতে ফেরতপাঠানোরঅর্থ এই নয় যে, তাঁকে স্বধর্ম ত্যাগ করতে হবে বা তিনি ইসলামেরতথাআল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বঞ্চিত হবেন। প্রকৃতপক্ষে এমন প্রতিকূলঅবস্থারবিরুদ্ধেও ইসলামকে যিনি নিজ জীবনে ধারণ করবেন, তিনি অবশ্যইতাঁরউদাহরণ দ্বারা অপরকেও ইসলাম গ্রহণে প্রভাবিত করতে সক্ষম হবেন।মক্কাতেইসলাম প্রচারের তিনিই হবেন মধ্যমণি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ঈমানেরদৃঢ়তায়দৃঢ় এই সব মুসলিমদের মদিনাতে অবস্থান করা অপেক্ষা মক্কাতেঅবস্থান করাইসলাম প্রচারের জন্য সে সময়ে অধিক প্রয়োজন ছিলো।সার সংক্ষেপ : ঠান্ডা মাথায় উত্তেজনাহীন সাহস, আন্তরিকতা,বিশ্বস্ততা,শৃঙ্খলা, বিশ্বাস এবং ধৈর্য্য এগুলিই হচ্ছে প্রকৃত বিজয়লাভের মাধ্যমযেমন হুদায়বিয়ার প্রান্তরে মুসলমানেরা প্রদর্শন করেন।সুতারাং বিজয়েরজন্য আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভরশীল হও এবং রাসুলের (সা )আনুগত্য কর। [ ৪৮: ১ - ২৯ ]।
সুরা আন-নুর 1.0
w3app9
সূরা নূর বা আলো - ২৪৬৪ আয়াত, ৯ রুকু , মাদানী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : আমাদের নৈতিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করার পরিবেশগত এবংসামাজিকপ্রধান উপকরণ হচ্ছে স্ত্রী -পুরুষের যৌন জীবন, বিশেষভাবে যখনএই যৌনজীবনকে অপব্যবহার করা হয়। যৌন জীবনকে অপব্যবহার করার ফলেমানুষেরইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ বিনষ্ট হয়। মানুষ বিভিন্নভাবে যৌনজীবনকেকলুষিত করে থাকে। উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনের মাধ্যমে, অথবা মিথ্যাকলঙ্কআরোপ করে, অথবা পরিশুদ্ধ গার্হস্থ্য জীবনের চুক্তি ভঙ্গেরদ্বারা।জীবন পথের বাঁকে বাঁকে থাকে যৌন জীবনকে কলুষিত করার ফাঁদ। যেএই সবফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, তাঁর আত্মাই পারেআল্লাহ্‌র'আলোকে' আত্মার মাঝে ধারণ করতে; আত্মাকে পূত পবিত্ররূপেপরিশুদ্ধকরতে, - সৃষ্টির আদিতে তাকে যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিলো। এইসূরার মূলবিষয়বস্তুকে এ ভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।মহিলাদের প্রতি মিথ্যা কলঙ্ক আরোপ করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ করা হয়েছে [২৪: ১১ - ২০ ]। এই আয়াতটি হযরত আয়েশার জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্রকরেঅবতীর্ণ হয় , ৫ - ৬ হিজরীতে। সূরাটির অবতরণের সময়পুঞ্জিঅনুসারেসূরাটি হবে মদিনার সূরা।সারসংক্ষেপ : যৌন কলুষতাকে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে দমন করতে হবে।কিন্তুএ ব্যাপারে প্রকৃত সাক্ষী প্রমাণের প্রয়োজন হবে। মহিলাদেরসম্বন্ধেমিথ্যা কলঙ্ক রটনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মেয়েদের সম্বন্ধে লঘুকথা বলাবা তাদের অশালীনভাবে বিরক্ত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ [ ২৪ : ১ -২৬]।গোপনীয়তাকে সম্মান করতে হবে। পোষাক ও ব্যবহারে শালীনতা রক্ষা করেচলতেহবে [ ২৪ : ২৭ - ৩৪ ]।আলো এবং অন্ধকার; শৃঙ্খলা ও উচ্ছৃঙ্খলতার উপমাসমূহ দ্বারামানুষকেধর্মীয় কর্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করা হয়েছে [ ২৪ : ৩৫ -৫৭]।পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের আচার ব্যবহার চারিত্রিক গুণাবলীবিকাশেরমাধ্যম বিশেষ। আর চারিত্রিক গুণাবলী-ই মানব সন্তানকে আল্লাহ্‌রপ্রতিকর্তব্য কর্মে উদ্বুদ্ধ করে আধ্যাত্মিক মুক্তির পথ প্রদর্শন করে[ ২৪: ৫৮ - ৬৪ ]।
সূরা আ’লা (العربية , উচ্চারণ, অর্থ, English, Mp3) 1.0
w3app9
সূরা আ'লা বা সুউচ্চ -৮৭১৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : প্রাথমিক মক্কী সূরাগুলির মধ্যে এটিঅন্যতম।সম্ভবতঃ অবতরণের ক্রমপঞ্জি অনুযায়ী এটি অষ্টম। ৮১ নং সূরারপরেই এটাঅবতীর্ণ হয়।এই সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে, আল্লাহ্‌ মানুষকে ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিকজগতেঅগ্রসর হওয়ার ক্ষমতা দান করেছেন। আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশক্রমান্বয়ে তাকেপবিত্র থেকে পবিত্রতর ও নৈতিক দিকে উৎকৃষ্ট থেকেউৎকৃষ্টতর পরিণতিরদিকে অগ্রসর করাবে।
সূরা আবাসা 1.0
w3app9
সূরা আবাসা বা ভ্রুকুটি করা -৮০৪২ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা ও সারসংক্ষেপ : এটি একটি প্রাথমিক মক্কী সূরা।আল্লাহ্‌রপ্রত্যাদেশের প্রতি রাসুলের (সা) আন্তরিক আনুগত্যের সাথে এসূরাটিসম্পৃক্ত। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ছিলেন হযরত মুহম্মদ মুস্তফা(সা)।তবুও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতির বাইরে ছিলেন না।আল্লাহ্‌রপ্রতি আনুগত্যের গভীর আবেগ ও উদ্দীপনা থেকে ক্ষণ কালের জন্যতিনিসাময়িক ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা তাঁর ন্যায় সর্বোচ্চমুল্যবোধসম্পন্ন মানুষের জন্য স্বাভাবিক ছিলো না। এই ভুলকে তিনিসানন্দে,সাগ্রহে সংশোধনে আগ্রহী ছিলেন।একদিন রাসুল (সা) গভীর আন্তরিকতা নিয়ে কতিপয় ধনী মোশরেককোরাইশসরদারদের সাথে কোরাণের বাণী আলোচনা করছিলেন। তিনি যখনকোরাণেরপ্রত্যাদেশ সমূহ তাদের নিকট ব্যাখ্যা করছিলেন সে সময়েআব্দুল্লা-ইবন-উমাই -ই মুকতাম নামক এক গরীব অন্ধ ব্যক্তি তাঁর নিকটধর্মীয় উপদেশযাঞা করেন। সম্ভ্রান্ত কোরাইশদের মজলিশের মাঝপথে এরূপবাঁধা রাসুল(সা) পছন্দ করলেন না। সম্ভবত : রাসুলের (সা ) বিরক্তমনোভাব অন্ধবেচারীর অনুভূতিকে আহত করে। যে মহামানবের হৃদয় গরীব ওহতাভাগ্যদেরজন্য সর্বদা সহানুভূতিতে আপ্লুত থাকতো, ক্ষণকালের এইবিভ্রান্তিতেআল্লাহ্‌ তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ নাজেল করেন। প্রত্যাদেশেরআলোয় তারবিভ্রান্তি দূর হয়ে যায়, তিনি সাথে সাথে ইতঃস্তত না করে তাসর্বসমক্ষে প্রকাশ করে দেন। আর এই প্রত্যাদেশ পবিত্র ধর্মীয় পুস্তকেরঅংশহয়ে যায়, যার উল্লেখ আছে আয়াত [ ১৩ - ১৬ ]। এর পর থেকে রাসুল(সা)সর্বদা উক্ত ব্যক্তিকে উচ্চ সম্মান ও মর্যদা প্রদর্শনকরতেন।চলমান পৃথিবীতে এরূপ ঘটনা অহরহই ঘটে থাকে। রাসুলের (সা )জীবনেরমাধ্যমে এরূপ ঘটনার শাশ্বত সত্য নীতি সমূহের প্রত্যাদেশপৃথিবীরমানুষের জন্য প্রেরণ করা হয়। এই সূরা পুণরায় স্মরণ করিয়ে দেয়মানুষেরপ্রতি আল্লাহ্‌র করুণা, ইহকাল ও পরকালে ভালো ও মন্দ কাজেরশেষপরিণতি।
সূরা মারইয়াম (العربية ,উচ্চারণ, অর্থ, English,Mp3) 1.0
w3app9
সূরা মার্ইয়াম - ১৯৯৮ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : সূরা ১৭ তে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে প্রতিটি মানুষেরআধ্যাত্মিকউন্নতির মূল নীতিমালা হচ্ছে, নৈতিক চরিত্র, এবং সূরা ১৮ তেবলা হয়েছে,অনুধাবন করতে জীবনের রহস্য ও এর স্বল্পস্থায়িতা এবংজুলকারনাইনেরকাহিনীর মাধ্যমে উদাহরণ স্থাপন করা হয়েছে কিভাবেআল্লাহ্‌ প্রদত্তক্ষমতাকে সদ্ব্যবহার করতে হয়। এই সূরা শুরু হয়েছেপরিবেশের প্রেক্ষিতেবিভিন্ন রাসুলদের কাহিনীর মাধ্যমে ইয়াহিয়া ও তাঁরপিতা জাকারিয়া, যীশুও তার মা মরিয়ম, ইব্রাহীম ও তাঁর অবিশ্বাসী পিতা,মুসা ও তাঁর ভাইহারূন, ইসমাঈল ও তাঁর পরিবার, এবং ইদরীস ও তাঁর উচ্চঅবস্থান। এসবমহামানবদের জীবনের ছবি চিত্রিত করে, মানুষকেবিশ্বাসহীনতার জন্য নিন্দাকরা হয়েছে। নিন্দা করা হয়েছে কুসংস্কারেরদ্বারা আত্মার অবনতি ঘটানোরজন্য এবং সাবধান করা হয়েছে পরকালেরজন্য।আবিসিনিয়াতে প্রথম মুসলিম অভিযাত্রীদল যখন আশ্রয় গ্রহণ করেন এইসূরাতারও পূর্বে মক্কাতে অবতীর্ণ হয়। মোটামুটিভাবে এই সূরার অবতীর্ণহওয়ারসময়কাল হচ্ছে হিজরতের প্রায় সাত বৎসর পূর্বে।সারসংক্ষেপ : পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে আল্লাহ্‌র বাণী প্রচারেরজন্যজাকারিয়া উদ্বিগ্ন হন এবং সে জন্য তিনি উত্তরাধিকার কামনাকরেন।আল্লাহ্‌ তাঁকে ইয়াহিয়াকে দান করেন [ ১৯: ১- ১৫ ]হযরত ঈসার মা মেরীর সম্বন্ধে তাঁর লোকেরা কুৎসা রটনা করে। কিন্তুযীশুতাঁকে সান্তনা দান করেন ও ভালো ব্যবহার করেন। [ ১৯: ১৬-৪০ ]হযরত ইব্রাহীমকে লোকেরা তাঁর বিশ্বাসের কারণে নির্যাতন করে। এসবলোকেরমধ্যে তাঁর পিতাও ছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের ত্যাগ করেন ওআল্লাহ্‌রঅনুগ্রহ লাভ করেন। হযরত মুসাকে তাঁর ভাই হারুন সাহায্য করেন।হযরতইসমাঈল তাঁর পরিবারকে পূণ্যাত্মারূপে শিক্ষা দান করেন। হযরতইদরীসছিলেন উচ্চমানের পূণ্যাত্মা ও সত্যবাদী। তাঁর মানুষদের তিনিপথনির্দ্দেশ দান করেছেন , কিন্তু মানুষ সেই সুন্দর জীবনের প্রত্যাশীনয়[ ১৯: ৪১ - ৬৫ ]মানুষের পরকাল সম্বন্ধে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আল্লাহ্‌রধারণাকেমিথ্যা দ্বারা নোংরা করবে না। [ ১৯ : ৬৬ - ৯৮ ]
সূরা আশ-শুয়ারা 1.0
w3app9
সূরা শু'য়ারা বা কবি - ২৬২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, মক্কী[দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভূমিকা : পরবর্তী চারটি সূরা [ ২৬ - ২৯ ] এক নূতন ক্রমপঞ্জিরঅবতারণাকরেছে। এখানে তুলনা করা হয়েছে আল্লাহ্‌র নবীদের সাথে।আল্লাহ্‌র বাণীপ্রচারের ফলে সমসাময়িক সম্প্রদায়ের মাঝে তারপ্রতিক্রিয়া। উদাহরণ দেয়াহয়েছে প্রাচীন যুগের নবী রসুলদের। এব্যাপারটি ব্যাখ্যা করা হয়েছেসূরা ১৭ এর ভূমিকাতে।এই বিশেষ সূরাটিতে হযরত মুসার কাহিনীর মাধ্যমে মুসার সাথেফেরাউনেরবিরোধ এবং ফেরাউনের পরাজয়কে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যান্য যে সবনবীদেরউল্লেখ আছে, তারা হলেন ইব্রাহীম, নূহ্‌, হুদ, সালেহ্‌ , লূতএবংশুয়েব। এখানে এই শিক্ষাদান করা হয়েছে যে, কোরাণ হচ্ছেপূর্ববর্তীপ্রত্যাদেশেরই ধারাবাহিকতা এবং তা হচ্ছে শাশ্বত সত্য।অবশ্যই তা কোনকবির মিথ্যা গীতিকাব্য নয়।ক্রমপঞ্জি অনুযায়ী এই সূরা রসুলের [ সা ] মক্কাতে অবস্থানেরমধ্যবর্তীসময়ে অবতীর্ণ হয়। যখন নবুয়তের আলো মক্কার কোরেশদের শতাব্দীরঅজ্ঞতারঅন্ধকার কে আঘাত হেনেছিলো , তখন তা তারা প্রতিহত করে অহংকার ,উদ্ধতঅবাধ্যতা দ্বারা।সারসংক্ষেপ : সত্য বিশ্বাসের সাথে অবিশ্বাসের সংঘর্ষ ভিত্তিহীন।ঠিকসেরূপ বৃথা ছিলো মুসার সাথে ফেরাউনের বিরোধিতা। ফেরাউনেরসভারযাদুকরেরা মুসার প্রভাবের প্রকৃত সত্যকে প্রতিভাত করে এবং সত্যেরনিকটআত্মাসমর্পন করে, অপরপক্ষে অবিশ্বাসী ফেরাউন ও তাঁর সভাসদ্‌রাপানিতেডুবে মারা যায় [২৬ : ১ - ৬৯ ]।সত্যকে প্রতিহত করার মাধ্যমে ইব্রাহীমের সম্প্রদায় কোনও কিছুই লাভকরতেপারে নাই। নূহ্‌ এর সম্প্রদায় তাদের অবিশ্বাসের দরুণ ধ্বংস হয়েযায় [২৬ : ৭০ - ১২২ ]।হুদ তাঁর সম্প্রদায়কে জাগতিক বিষয়ের উপর অতিমাত্রায়নির্ভরশীলতারবিরুদ্ধে সাবধান করেন। সালেহ্‌ নবী পবিত্র নিদর্শনকেঅপবিত্র করারবিরুদ্ধে সাবধান করেন। উভয় ক্ষেত্রেই পাপীরা শাস্তি পায় [২৬ : ১২৩ -১৫৯]লূত তাঁর সম্প্রদায়কে জঘন্য পাপের বিরুদ্ধে সাবধান করেন, শোয়েবঅসৎবাণিজ্যের বিরুদ্ধে এবং অন্যের ক্ষতি করার প্রবণতার বিরুদ্ধেসাবধানকরেন। তাদের শিক্ষা গ্রহণ না করে প্রতিহত করে ফলে তারা ধ্বংসহয়ে যায়[২৬:১৬০- ১৯১ ]।ঠিক সেভাবেই নবুয়তের আলো যখন মক্কাতে অবতীর্ণ ঘটে, পাপের পূজারীরাতাকেবাঁধা দান করে। কিন্তু সত্য তো কোনও অলীক বা কল্পনা প্রসুত কবিতানয়,অবশ্যই তা শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেই [ ২৬ : ১৯২ - ২২৭ ]।
সূরা আন-আম 1.0
w3app9
সূরা আল্‌-আন্‌-আম বা পশু - ৬আয়াত ১৬৫, রুকু ২০, মাক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে]ভূমিকা : ক্রম অনুযায়ী মক্কার অবতীর্ণ সূরাগুলির মধ্যে এইসূরাটিরঅবস্থান শেষাংশে। এই সূরার অধিকাংশ মক্কাতেই নাযেল হয়। কোরআনশরীফে এইসূরাটি অবস্থান যক্তিযুক্তভাবে প্রথাগত নিয়ম অনুসরণ করাহয়েছে। এপর্যন্ত আমরা মানব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ইতিহাস অবলোকনকরেছি,পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশের আলোচনা এবং কিভাবে দূর্নীতি রাহুগ্রস্থহয়েহায়িয়ে যায় তা বলা হয়েছে। নূতন সম্প্রদায়ের সংঘবদ্ধ জীবনপ্রণালী,আল্লাহ্‌র একত্বে বিশ্বাস যা ইসলামের (হযরত ইব্রাহীমের ধর্ম)মূলমন্ত্র তা থেকে ইহুদী ও খৃষ্টান সম্প্রদায়ের বিচ্যুতি এসববিষযেআলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরব মোশরেক-দের পৌত্তলিকতাকেএএকত্ববাদের পটভূমিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।সার-সংক্ষেপ : আল্লাহ্‌র প্রকৃতি এবং যে ভাবে বিশ্ব প্রকতিরমালিকনিজেকে প্রকাশ করেন তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং সেই সাথেমোশরেকদেরবহু-ঈশ্বরাবাদের গুরুত্বহীনতাকে তুলে ধরা হয়েছে।[৬:১-৩০]এই অপূর্ব সুন্দর পৃথিবী আল্লাহ্‌র বিষ্ময়কর সৃষ্টির অপূর্বনিদর্শন।কিন্তু এই সুন্দর পৃথিবীর জীবন পরকালের জীবনের তুলনায়মূল্যহীন। যাকিছু অদৃশ্য,অশ্রুত গোপনীয় সবই আল্লাহ্‌ জ্ঞাত।[৬:৩১-৬০]এই পৃথিবীর সৃষ্টিতে, এর রক্ষণাবেক্ষণ, ধারাবাহিকতা সবই সেইস্রষ্টারএকাত্বের দিকে ইঙ্গিত করে। একথা হযরত ইব্রাহীমের কথাই স্মরণকরিয়েদেয়, যিনি মুশরিকদের সাথে যুক্তিকে লিপ্ত হয়েছিলেন।[৬:৬১-৮২]হযরত ইব্রাহীমের বংশধরের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাঁর সত্যকে চিরদিনভাস্বররেখেছেন এবং শেষ প্রর্যন্ত তা কোরআন শরীফে এসে শেষ হয়। যদিকেউআল্লাহ্‌র সৃষ্টিকে অনুধাবন করেতে চেষ্টা করে এবং সৃষ্টিরসমন্বয়,ধারাবাহিকতার শৃঙ্খলা ইত্যাদি সম্বন্ধে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তাকরে,তবে এমন কি কেউ আছে যে আল্লাহর মহিমা, দয়া তার প্রত্যাদেশঅনুধাবনেব্যার্থ হবে।' [৬:৮৩-১১০]অবাধ্য ও বিদ্রোহীরাই প্রতারিত হয়। তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে।যদিওতারা পরস্পর পরস্পরের সহযোগী তবুও তারা শাস্তি এড়াতে পারবেনা।[৬:১১১-১২৯]বিদ্রোহীদের অপরাধ ও কুসংস্কার সত্বেও আল্লাহ্‌র হুকুমপ্রতিষ্টিতহবেই। [৬:১৩০-১৫০]সরলপথের অনুসরণ করাই হচ্ছে উত্তম পথ। কোরআনের নিদ্দের্শ অনুযায়ীএইহচ্ছে আল্লাহ্‌ নির্দ্দেশিত পথ। সুতরাং এই পথকে অনুসরণ করারজন্যআমাদের একতাবদ্ধ ভাবে জীবন উৎসর্গ করতে হবে। [৬:১৫১-১৬৫]
সুরা আল-আসর 1.0
w3app9
সূরা আসর বা মহাকাল - ১০৩৩ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময় পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]ভুমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই মক্কী সূরাতে মহাকালের শপথ করাহয়েছে।ইতিহাস সাক্ষ্য দান করে যে মন্দের শেষ পরিণতি সব সময়ে মন্দইহবে।কিন্তু যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য সৎ কাজ করেএবংপূত পবিত্র জীবন যাপন করে ও অন্যকেও সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দানকরেতাদের শেষ পরিণতি মঙ্গলময়। দেখুন ৯৫ নং সূরার বিষয়বস্তু।সূরা আসর বা মহাকাল - ১০৩৩ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময় পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]১। মহাকালের শপথ ৬২৬২ ;৬২৬২। 'Al-Asr' এর অর্থ দ্বিবিধ হতে পারে : ১) মহাকাল - যা আদিঅনন্তকাল ব্যপী। সেক্ষেত্রে 'Dahr' দ্বারা যে বিমূর্ত ভাবকে বোঝানোহয়তাকেই বুঝায়। ২) অথবা এর দ্বারা আসরের সালাতের সময়কে বুঝানো হয়েছে[দেখুন ২: ২৩৮ আয়াতের টিকা ২৭১ ]।সময়ের প্রতি আবেদন করা হয়েছে। সময় আল্লাহ্‌র এক অত্যাচার্য সৃষ্টি।এসম্বন্ধে সকলেরই ধারণা আছে, তবে কেহই সময়কে সম্পূর্ণরূপেব্যাখ্যাকরতে পারে না। পার্থিব সকল কিছুকে 'সময়' ধ্বংস করে দেয়। সময়েরগর্ভেইতিহাস বিলিন হয়। সময়ের গতির সাথে পাল্লা দেয়ার ক্ষমতা মানুষেরনাই।কবির ভাষায়,"সময় চলিয়া যায়নদীর স্রোতের প্রায়। "এই সময়কে কেউ ধরে রাখতে বা স্তব্ধ করে দিতে সক্ষম নয়,একমাত্রআধ্যাত্মিক জগতই 'সময়' কে জয় করতে পারে কারণ আধ্যাত্মিক জগতহচ্ছে আদিঅন্তহীন সময়। দেখুন ৩ নং আয়াত যেখানে বলা হয়েছে এই সময়কেসঠিক ভাবেব্যবহার করে মানুষ ইহকাল ও পরকালেও বিরাট ও বিষ্ময়কর মুনাফাঅর্জনকরতে পারে। আবার ভ্রান্ত পথে চললে এটাও তার জন্য বিপদজনকও হয়েযেতেপারে। আসরের সালাতের সময়ের জন্য দেখুন পরবর্তী টিকা।২। মানুষ ক্ষতির মাঝে অবস্থান করছে ৬২৬৩,৬২৬৩। আসর অর্থাৎ অপরাহ্নের সালাতের সময়। যদি আমরা জীবনের উপমাদিইব্যবসা বাণিজ্যের কর্মক্ষেত্র স্বরূপ তবেই এই আয়াতটি অর্থবহ হবে।যেমানুষ শুধুমাত্র তার পার্থিব বিষয় বস্তু সম্বন্ধে সতর্ক এবংজাগতিকলাভের জন্যই সবর্দা চেষ্টা করে থাকে সেই হচ্ছে প্রকৃতক্ষতিগ্রস্থ।ব্যবসা বাণিজ্যের যেমন দিন শেষে অপরাহ্নে [ আসরের সময়ে ]হিসাব গ্রহণকরা হয়, ঠিক সেরূপ জীবনের শেষে অপরাহ্নে এ জীবনের হিসাবমিলানো কঠিনহবে। জীবনের শেষ হিসেবে লাভবান হতে পারতো যদি তাদেরবিশ্বাস বা ঈমানথাকতো, আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য তারা পূত পবিত্রজীবন যাপন করতো,সৎকাজে নিজেকে নিয়োজিত করতো এবং অন্যকেও সৎ উপদেশদিত।৩। তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে ৬২৬৪, এবংপরস্পরকেসত্য,ধৈর্য ও দৃঢ়তার উপদেশ দেয়। ৬২৬৫৬২৬৪। তারাই জীবনের শেষ হিসেবের দিনে ক্ষতিগ্রস্থ হবে না যারাবিশ্বাসবা ঈমান ও সৎকর্মকে বর্ম হিসেবে ধারণ করে থাকে পৃথিবীতে। এইবর্মইতাদের পার্থিব জীবনের ক্লেদাক্ত পরিবেশ থেকে রক্ষা করবে। তাঁরপূত,পবিত্র জীবনই হবে তার আধ্যাত্মিক জগতের উত্তরণের সিড়ি। লক্ষ্যকরুণঈমান ও সৎকর্ম আত্মসংশোধনের সাথে সর্ম্পকিত।৬২৬৫। কবির ভাষাতে," পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাওতার মত সুখ কোথায় কি আছে আপনার কথা ভুলিয়া যাও।"কবিতাটি আল্লাহ্‌র বাণীর প্রতিধ্বনি। যদি কেউ শুধুমাত্র আত্মসুখওসমৃদ্ধির জন্য জীবন যাপন করে তবে সে আল্লাহ্‌ কর্তৃক প্রদত্তদায়িত্বও কর্তব্য সঠিক ভাবে পালন করে না। ব্যক্তিকে আল্লাহ্‌ যা কিছুভালো ওনেয়ামত দান করেন সে অবশ্যই তা সকলের সাথে অংশীদারীত্বেরভিত্তিতে ভোগকরবে। বিশেষ ভাবে নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক জীবনে যদি কোনরহমত সেআল্লাহ্‌র নিকট থেকে লাভ করে তবে তা প্রচার ও প্রসার করা তারজন্যদায়িত্ব ও কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়; যেনো তারা সত্যকে প্রত্যক্ষ করতেপারেএবং ধৈর্য্য ও দৃঢ়তার সাথে সেই সত্য পথকে অনুসরণ করার যোগ্যতাঅর্জনকরতে পারে। ঝঞাবিক্ষুব্ধ সাগরে সংসার তরণীকে সঠিক পথে পরিচালিতকরতেপারে ধৈর্য্য,দৃঢ়তা ও অধ্যাবসায় দ্বারা। তাহলে সে [উপদেশদানকারী ]এবংতারা [ উপদেশ গ্রহণকারী ] উভয়েই অমৃত সূধার সন্ধান লাভ করবেআত্মারমাঝে; যা তাদের জন্য বয়ে আনবে প্রগাঢ় প্রশান্তি।